
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে লাভজনক, আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
সম্প্রতি রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিমানের সদর দপ্তর বালাকা ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। সভায় বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. হুমায়রা সুলতানাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা হিসেবে দেশের গর্ব। তাই এটিকে লোকসানের খাত থেকে বের করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সকল স্তরের কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আসে সাধারণ যাত্রীদের দেওয়া ভাড়া থেকে। তাই যাত্রীদের প্রতি যথাযথ সম্মান, আন্তরিকতা ও সেবা প্রদান করা প্রত্যেক কর্মীর নৈতিক দায়িত্ব।
মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, “যাত্রীরা আমাদের গ্রাহক, তাদের সন্তুষ্টি না থাকলে বিমানের উন্নয়ন সম্ভব নয়।” সভায় তিনি যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে কঠোর নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে লাগেজ চুরি, টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন।
তিনি কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতা ভিত্তিক পদোন্নতি ব্যবস্থা চালু করার কথা উল্লেখ করেন। শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা হবে এবং কর্মীদের বেতন-ভাতা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করার বিষয়টি সরকারেরবিবেচনায় রয়েছে বলে জানান। এছাড়া বিমানের ফ্লিট আধুনিকায়ন, নতুন রুট চালু, হজ ফ্লাইটসহ বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিমানের ভাড়া অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে এবং টিকিট এজেন্সিগুলোতে দুর্নীতি বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সভায়প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিমানকে আরও প্রবাসীবান্ধব করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী রিতা বলেন, বিমানকে যদি স্বনামধন্য বিদেশি সংস্থার সঙ্গে লিজ বাযৌথ ব্যবস্থাপনায় নেওয়া যায়, তাহলে সেবার মান আরও উন্নত হতে পারে। তবে সবকিছুর আগে নিজস্ব কর্মীদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। লোকসান কমানো, ফ্লাইটের নিয়মিততা বজায় রাখা এবং যাত্রীদের অভিযোগ কমানো এখন সবচেয়ে বড় কাজ। মন্ত্রীর এই আহ্বানকে বিমানের কর্মীরা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। অনেকে মনে করেন, সরকারের এমন সক্রিয় ভূমিকা বিমানের পুনরুজ্জীবনে সহায়ক হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়নসহ সার্বিক বিমান খাতকে আধুনিক করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। যাত্রীসেবা আরও সহজ, দ্রুত ও গতিশীল করতে ডিজিটালাইজেশনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা আপনাদের পাশে আছি। আপনারা যাত্রীদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে বিমান অবশ্যই সফল হবে।”
এই মতবিনিময় সভা বিমানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যদি ঘোষিত নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে জাতীয় পতাকাবাহী এই এয়ারলাইন্স শুধু লাভজনকই নয়, বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারবে। যাত্রীরা পাবেন বিশ্বমানের সেবা, আর বিমান পাবে নতুন গতি। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের পর্যটন ও বিমান পরিবহন খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



