
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : জেট ফুয়েলের দাম গত কয়েক সপ্তাহে ১১৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ এভিয়েশন খাতে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো প্রতি টিকিটে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করলেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (বিমান) মাত্র ১০০ টাকা ভাড়া বাড়িয়েছে। এতে বেসরকারি কোম্পানিগুলো সরকারি ভর্তুকির অভিযোগ তুলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতি টিকিটে প্রায় ১,৫০০ টাকা খরচ বাড়ার কথা থাকলেও বিমান খুব সামান্যই ভাড়া সমন্বয় করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই ভর্তুকি কে দিচ্ছে? শেষ পর্যন্ত দেশের সাধারণ জনগণেরট্যাক্সের টাকায় এভিয়েশন খাতকে সহায়তা করা হচ্ছে, যা ন্যায্য নয়।”
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রার মতো তিনটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স ঢাকা-কক্সবাজার, সিলেট, চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুর রুটে ১,২০০ টাকা এবং যশোর-রাজশাহী রুটে ১,০০০ টাকা সারচার্জ যুক্ত করেছে। এয়ার অ্যাস্ট্রার চিফ কমার্শিয়াল অফিসার মেজবাউল ইসলাম বলেন, “ভাড়ার এই বড় পার্থক্যের কারণে যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবেই বিমানের দিকে ঝুঁকবে। আমরা আগাম টাকা দিয়ে জ্বালানি কিনি, অথচ বিমান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ভর্তুকি পেয়ে কম দামে টিকিট দিতে পারছে। সব এয়ারলাইন্সকে সমান শর্তে দেখা উচিত।”
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, এই অসম প্রতিযোগিতার প্রভাব শুধু এয়ারলাইন্সের ওপর নয়, যাত্রীদের ওপরও পড়ছে। তিনি সরকারের কাছে দাবি করেন যে বিষয়টি দ্রুত পুনর্বিবেচনা করে খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা হোক।
ঈদের পর যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়াএবং জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি মিলিয়ে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো এখন আর্থিক চাপে রয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে, যাত্রীরা সস্তায় বিমানে ভ্রমণ করতে গিয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ফ্লাইটে আগ্রহ হারাবে, যা তাদের ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দাম শিগগিরই কমার সম্ভাবনা কম। তাই এভিয়েশন খাতের সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে সরকারের দ্রুত নীতিগত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বিমান কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, তারাও ভাড়া সমন্বয়ের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, তবে কবে তা কার্যকর হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ আকাশপথে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা না গেলে পুরো এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



