পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ইসরায়েলের লাগাতার বোমাবর্ষণে অবরুদ্ধ গাজায় আরও রক্তপাত ঘটেছে। বুধবার একদিনেই কমপক্ষে ৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শুধু গাজা সিটিতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩ জন। স্থানীয় সূত্র বলছে, ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকটি এলাকায় সরাসরি পরিবারকে টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাস এই পরিস্থিতিকে সরাসরি গণহত্যা আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আশ্রয়কেন্দ্র ও তাঁবুতেও নির্বিচারে বোমাবর্ষণ চলছে, যেখানে যুদ্ধ থেকে বাঁচতে মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল।
বাস্তুচ্যুত সাবরিন আল-মাবহুহ বলেন, “আমার ভাইকে তার ঘরে হত্যা করেছে। তার স্ত্রী-সন্তানসহ কেউ বেঁচে নেই।” গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকায় একটি স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্রে গ্রেনেড হামলায় আগুন ধরে গেলে বহু মানুষ হতাহত হন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবরোধ ও খাদ্য সংকটে গত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশুসহ আরও ছয়জন অপুষ্টি ও অনাহারে মারা গেছে। এ পর্যন্ত অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৭, যার মধ্যে ১৩১ শিশু।
মাত্র তিন সপ্তাহে গাজা সিটিতে শতাধিক রোবট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো আবাসিক ব্লক ধ্বংস করা হয়েছে। ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া অভিযানে শুধু ওই শহরেই প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি।
হামাস জানায়, তারা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে সব ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিতে প্রস্তুত। তবে ইসরায়েলি বাহিনী উত্তর গাজার আল-জারিসি পরিবারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অন্তত ১০ জনকে হত্যা করেছে, যা হামাস “ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ” বলে উল্লেখ করেছে।
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, চলমান দখল অভিযান প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে। শুধু আগস্টের শেষ দুই সপ্তাহে অন্তত ৮২ হাজার মানুষ জোরপূর্বক ঘরছাড়া হয়েছেন।
আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ গাজা সিটি থেকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি “প্রলয়ংকরী” রূপ নিয়েছে। তার ভাষায়, “একটার পর একটা মহল্লা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কয়েক দশকের পরিশ্রমে মানুষ যা গড়েছিল, মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।”



