
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আকাশসীমা বন্ধের কারণে বাংলাদেশ থেকে একাধিক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শতাধিক যাত্রী আটকে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের জারি করা জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীরা যে অপ্রত্যাশিত অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাদের রাত্রিযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ বিভিন্ন গন্তব্যগামী ফ্লাইট স্থগিত থাকায় প্রবাসী শ্রমিক, উমরাহ যাত্রী ও অন্যান্য যাত্রীরা বিমানবন্দরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যাদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে তাদের জন্য রাত্রিযাপনের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এজন্য যাত্রীদের বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক অথবা নির্ধারিত লাউঞ্জে যোগাযোগ করে সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের ফলে অনেক যাত্রী রাতভর বিমানবন্দরের মেঝেতে অপেক্ষা করার আশঙ্কা থেকে কিছুটা মুক্তি পেয়েছেন।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, শনিবার বিকেল থেকে ফ্লাইট স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। অনেক প্রবাসী শ্রমিক ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে এই সংকটে পড়েছেন। উমরাহ যাত্রীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় যাত্রীদের পরামর্শ দিয়েছে যেন তারা প্রথমে নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হটলাইন ১৩৬৩৬-এ কল করে সর্বশেষ ফ্লাইটের তথ্য নেওয়া যাবে। একইসঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফ্লাইট পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় চলছে বলে জানানো হয়েছে।
এই সংকট শুধু ভ্রমণের অসুবিধাই নয়, কর্মস্থলে ফিরতে বিলম্ব হলে চাকরি ও ভিসার মেয়াদ সংক্রান্ত ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। অনেক যাত্রী দাবি করেছেন যেন সরকার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়ে ভিসা ও ইকামা মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কগুলোকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে যাত্রীরা দ্রুত সহায়তা পান। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মন্ত্রণালয় আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।



