১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়া বিমানবন্দর প্রকল্পে নতুন জেলা প্রশাসকের দৃঢ় অবস্থান: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের ইঙ্গিত

বগুড়া এয়ারপোর্ট

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বগুড়ায় বহুদিনের স্বপ্ন—নিজস্ব বিমানবন্দর—নিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে জেলার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ তৌফিকুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি প্রকল্পের স্থান ঘুরে দেখে জানিয়েছেন, বিষয়টি বিলাসিতা নয় বরং বগুড়ার ভবিষ্যতের জন্য জরুরি একটি প্রয়োজন।

এটা এমন এক দাবি, যেটা বগুড়াবাসী দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। আর নতুন ডিসির সরাসরি অবস্থান এই স্বপ্নকে আবারও বাস্তব আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছে।

স্থান পরিদর্শন করে শুরু, বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন

দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি কাগজে-কলমে জমা দেওয়া পুরনো রিপোর্ট বা নথির উপর দাঁড়াননি। বরং সরাসরি মাঠে গিয়ে দেখেছেন বিমানবন্দর এলাকার বর্তমান অবস্থা। আর সেখানেই দেখা গেছে প্রকল্পের সবচেয়ে বড় জটিলতাগুলো।

বিমানবন্দরের মূল সুবিধা আর রাডার স্টেশন—দুটো অংশই আলাদা। শুধু আলাদা নয়, একে অন্যের থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে। এই দূরত্ব শুধু একটি ব্যবস্থাপনাগত অসুবিধা নয়, ফ্লাইট পরিচালনা, নিরাপত্তা, নেভিগেশন, এমনকি পুরো অবকাঠামোর কার্যকারিতাকেই প্রভাবিত করে।

তবুও ডিসির বক্তব্যে ছিল দৃঢ়তা। তার ভাষায়, তিনি শুধু দায়িত্ববোধ থেকেই নয়, ব্যক্তিগত বিশ্বাস থেকেও মনে করেন বগুড়ার সত্যিই একটি বিমানবন্দর দরকার।

যোগাযোগ, ব্যবসা ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে

তার বিশ্লেষণ ছিল সরাসরি ও স্পষ্ট। তিনি বলেন, বগুড়ায় বিমানবন্দর হলে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
রাজধানী ও অন্যান্য বড় শহরের সাথে সংযোগ বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্য আরও দ্রুতগতিতে এগোবে, পর্যটন খাত নতুন দিগন্ত পাবে এবং বিনিয়োগও বাড়বে।

শুধু বাণিজ্য বা যাত্রী পরিবহনের দিক থেকেই নয়, জরুরি চিকিৎসা পরিবহন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সরকারি সেবা—সবকিছুতেই এই বিমানবন্দর বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে।

জটিলতা আছে, কিন্তু প্রশাসন থেমে নেই

এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে এমন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়, পরিকল্পনা এবং একাধিক সরকারি সংস্থার সমন্বয় দরকার। তহবিল থেকে শুরু করে জমির সমন্বয়, নেভিগেশন সার্ভিস, নিরাপত্তা—প্রতিটি ধাপই কঠিন।

কিন্তু তার বার্তা ছিল খুব পরিষ্কার—চ্যালেঞ্জ আছে, তবে এটি থামার কারণ নয়।

একটু হালকা ভঙ্গিতে তিনি নিজের ব্যস্ততার চিত্রও তুলে ধরেন—মনে হচ্ছে যেন তার “সাতটা মন একসাথে ব্যস্ত”। কথাটা শুনে উপস্থিত সবাই বোঝেন, কতগুলো প্রয়োজন ও দায়িত্ব একসাথে মাথায় নিয়ে তিনি কাজ করছেন।

প্রশাসনের ভিন্নধর্মী সক্রিয়তা

সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি জানান, শুধু কথা বলার জন্য কথা বলছেন না। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে তিনি চেষ্টা করছেন বাস্তব অবস্থার সাথে প্রশাসনিক পরিকল্পনার দূরত্ব কমাতে। বাংলাদেশে বড় বড় প্রকল্পগুলোতে অনেক সময় এই জায়গাটাই ফাঁকা থাকে—কাগজে ভালো পরিকল্পনা, মাঠে ভিন্ন বাস্তবতা।

এই মনোভাব তাকে আলাদা করে তোলে। তার কথায় প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি ছিল দায়িত্বশীলতার সুর।

“ইনশাআল্লাহ মানুষ অগ্রগতি দেখতে পাবে” — আত্মবিশ্বাসী ডিসি

আলোচনার শেষেও তিনি আশ্বাস দেন, বগুড়ার মানুষের বহু বছরের দাবি পূরণে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ মানুষ অগ্রগতি দেখতে পাবে।”
তার এই বক্তব্য শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং একটি বিশ্বাসের প্রকাশ।

সভায় কারা ছিলেন

মতবিনিময় সভায় ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মেজবাউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিএম ইমরুল কায়েস, বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি গণেশ দাসসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।

বগুড়া বিমানবন্দর নিয়ে বহু বছর ধরে নানা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে আলোচনার চেয়ে কাজের তাগিদ বেশি। নতুন ডিসির সক্রিয়তা, মাঠ পর্যায় পরিদর্শন, এবং স্পষ্ট অবস্থান—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি আবারও গুরুত্বের কেন্দ্রে ফিরে এসেছে।

এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনিক উদ্যোগ কতদূর এগিয়ে নিতে পারে এবং বগুড়ার মানুষ সত্যিই সেই অগ্রগতি দেখতে পায় কিনা।

Read Previous

বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া পর্যটন সম্পর্ক আরও এগিয়ে: ঢাকায় মেলায় নতুন আশা

Read Next

ডিম পাহাড়: বাংলাদেশের রোমাঞ্চ পর্যটনের নতুন চূড়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular