বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া পর্যটন সম্পর্ক আরও এগিয়ে: ঢাকায় মেলায় নতুন আশা

মালয়েশিয়া হাইকমিশনার

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ঢাকায় মালয়েশিয়া পর্যটন মেলার নৈশভোজে এক উষ্ণ ও প্রাণবন্ত সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান স্পষ্ট করে জানালেন—বাংলাদেশ তাদের কাছে শুধু গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন বাজারই নয়, বরং এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে সম্পর্ক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা আর গভীর বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বললেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতার ফলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং সংস্কৃতির মতো নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।

হাইকমিশনারের ভাষায়, এই সম্পর্ক আর শুধু কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় আটকে নেই; দুই দেশের সাধারণ মানুষও এখন এই বন্ধনের অংশ। তিনি মনে করিয়ে দেন—উচ্চ পর্যায়ের নিয়মিত সফর দুই সরকারের এই অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করছে। ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের সাম্প্রতিক শীর্ষ বৈঠকগুলো সেই ধারাবাহিকতারই প্রমাণ।

পর্যটনকে দুই দেশের মানুষের সেতুবন্ধন হিসেবে দেখছে মালয়েশিয়া

ওথমানের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে পর্যটনের গুরুত্ব। তার মতে, ভ্রমণ শুধু ঘোরা-ফেরা নয়; এটা এমন এক অভিজ্ঞতা যা খাবার, সংস্কৃতি, উৎসব এবং মানুষের গল্পের মাধ্যমে দেশগুলোর সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে।

তিনি জানালেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ভ্রমণকারীদের জন্য হাত বাড়িয়ে রেখেছে, বিশেষ করে আগামী বছরগুলোতে। তাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালে অন্তত ৩ লাখ বাংলাদেশি পর্যটককে মালয়েশিয়ায় স্বাগত জানানো। তিনি বাংলাদেশকে “মালয়েশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল পর্যটন বাজারগুলোর একটি” হিসেবে বর্ণনা করেন।

সংস্কৃতি ও উৎসব—সম্পর্কের নতুন জায়গা

মালয়েশিয়ার উৎসবের রঙ এবং ছন্দের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বললেন, এগুলো শুধু বিনোদন নয়; বহু সংস্কৃতির দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার পরিচয় বহন করে। তার মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়লে দুই দেশের মধ্যে উষ্ণতা আরও বাড়বে।

ঢাকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট অংশীদাররা। আবরার মালয়েশিয়ার পর্যটন উৎসব আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান—যাদের মধ্যে ছিল মালয়েশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়, MATRADE, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা।

ই-ভিসায় সতর্কবার্তা: তৃতীয় পক্ষ নয়, অফিসিয়াল পোর্টালই নিরাপদ

বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বার্তাটি দিলেন হাইকমিশনার—তা হলো ই-ভিসা। তিনি খুব স্পষ্টভাবে বললেন, ভ্রমণ সহজ হবে শুধু তখনই, যখন আবেদন করা হবে অফিসিয়াল ই-ভিসা পোর্টালের মাধ্যমে।

তিনি সতর্ক করে দেন—তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জমা দেওয়া ভুল তথ্য ভ্রমণকারীর জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে, এমনকি কালো তালিকাভুক্তও হতে হতে পারে।
হাইকমিশন তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত এই লিঙ্কগুলো শেয়ার করে, আর নির্দেশনা চাইলে মিশন সবসময় সাহায্যের জন্য প্রস্তুত—এ কথাটিও তিনি আশ্বস্ত করে জানান।

মালয়েশিয়া এখন আরও সংযুক্ত, আরও সহজ গন্তব্য

ওথমান বলেন, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে সংযুক্ত বিমানবন্দরগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এর অর্থ হলো—মালয়েশিয়া শুধু পর্যটনের জন্য নয়, বাণিজ্য, ট্রানজিট এবং বিনিয়োগের জন্যও একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

এই উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা বাংলাদেশের পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

২২টি সংস্থার অংশগ্রহণ—পর্যটন মেলার জমজমাট সূচনা

মেলায় অংশ নেয় মোট ২২টি সংস্থা—এয়ারলাইন্স, মেডিকেল সেন্টার, ট্যুর অপারেটর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ আরও অনেকে।
এই আয়োজন ছিল “মালয়েশিয়া ট্রুলি এশিয়া – মালয়েশিয়া ২০২৬” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে। উদ্দেশ্য স্পষ্ট—মালয়েশিয়ার সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা এবং দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও মানুষের চলাচল আরও বাড়ানো।

মালয়েশিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর করতে চায়—পর্যটন, সংস্কৃতি, শিক্ষা সব ক্ষেত্রেই।
ই-ভিসা হবে ভ্রমণের মূল চাবিকাঠি।
আর ২০২৬ সালের বড় লক্ষ্য—৩ লাখ বাংলাদেশি পর্যটক মালয়েশিয়া ভ্রমণ করবে।

দুই দেশের সম্পর্ক এতদিনের যাত্রার পর এখন নতুন এক অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে—আর পর্যটনই সেই পরিবর্তনের প্রান্তে দাঁড়ানো সেতু।

Read Previous

গ্লোবাল কেবিন ক্রু হওয়ার স্বপ্ন: যোগ্যতা, চ্যালেঞ্জ আর বাস্তব প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ পথচিত্র

Read Next

বগুড়া বিমানবন্দর প্রকল্পে নতুন জেলা প্রশাসকের দৃঢ় অবস্থান: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের ইঙ্গিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular