
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : রাজধানীতে আয়োজিত এক কর্মশালার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রথম সমন্বিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে। আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের জন্য বিমান চলাচল খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, অগ্রাধিকার এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) একটি হোটেলে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল মহাপরিকল্পনার সার্বিক চিত্র’ শীর্ষক কর্মশালায় এই মহাপরিকল্পনার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি)-এর তত্ত্বাবধানে এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)-এর কারিগরি সহায়তায় সিভিল এভিয়েশন একাডেমি, বাংলাদেশ এ কর্মশালার আয়োজন করে। মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ইশতেহার অনুসারে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান বিমান চলাচল কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনায় বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিমান সেবার আধুনিকায়ন, বিমান সংস্থাগুলোর সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, নিরাপত্তা-সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক মানোন্নয়ন এবং নতুন বিমানবন্দর নির্মাণসহ চলমান প্রকল্পগুলো এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত।
সিএএবি চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ছাড়া দেশকে আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো খাতের টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি বাণিজ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। আইসিএও বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এল আমিরি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে মহাপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। কর্মশালায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী, পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়, বিমান সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা ও আন্তর্জাতিক সংযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিমান চলাচল খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


