১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫ ডিসেম্বর যাত্রীদের আগেভাগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আহ্বান বিমান বাংলাদেশের

বাংলাদেশ বিমান

ফাইল ছবি: বাংলাদেশ বিমান

নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় ২৫ ডিসেম্বর সম্ভাব্য তীব্র যানজটের আশঙ্কার কথা জানিয়ে যাত্রীদের আগেভাগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থাটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—সব ধরনের যাত্রীদের জন্যই এ সতর্কতা জারি করেছে, যাতে যাত্রাপথে অপ্রত্যাশিত ভোগান্তি এড়ানো যায় এবং নির্ধারিত সময়ের ফ্লাইট নির্বিঘ্নে ধরা সম্ভব হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যে জানা গেছে যে, ২৫ ডিসেম্বর রাজধানীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বড় ধরনের জনসমাগম হতে পারে। এর প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং এর আশপাশের সড়কগুলোতে। বিশেষ করে বিমানবন্দর থেকে গুলশানগামী সংযোগ সড়ক এবং পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, যা সাধারণভাবে ৩০০ ফুট সড়ক নামে পরিচিত—এই রুটগুলোতে অতিরিক্ত যানচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য এই যানজটের কারণে বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে যারা শেষ মুহূর্তে রওনা হবেন, তাদের ফ্লাইট মিস করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা নতুন করে সাজানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটের যাত্রীদের উদ্দেশে জানায়, যাত্রার দিন সড়ক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়াই হবে সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সাধারণত তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অন্তত দুই ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর যে প্রচলিত নির্দেশনা রয়েছে, ২৫ ডিসেম্বর সে সময়ের চেয়েও কিছুটা বাড়তি সময় ধরে পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষের মতে, শুধু ফ্লাইট ধরাই নয়, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর চেক-ইন, ইমিগ্রেশন, নিরাপত্তা তল্লাশি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা জরুরি। যানজটের কারণে দেরিতে পৌঁছালে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে যাত্রীরা বাড়তি চাপ ও মানসিক অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। আগেভাগে পৌঁছালে সে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
এয়ারলাইন্সটি আরও জানায়, যাত্রীদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত হলে বিমানবন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সহজ হয়। ফ্লাইট ছাড়ার সময়সূচি বজায় রাখা, বোর্ডিং প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করা এবং যাত্রীসেবার মান ধরে রাখার ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আশা প্রকাশ করেছে, যাত্রীরা এ সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেবেন। যাত্রীদের সচেতনতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে ২৫ ডিসেম্বরের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। শেষ পর্যন্ত, আগাম পরিকল্পনা ও বাড়তি সময় হাতে রেখে চললে ওই দিনটি যাত্রীদের জন্য তুলনামূলকভাবে মসৃণ, মনোরম এবং ঝামেলামুক্ত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এনে দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা বিমান বাংলাদেশের।

প্রতিবেদক : মুহাম্মদ শফিকুল আশরাফ

Read Previous

দিপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ভিএইচপির বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

Read Next

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে বিমানবন্দর ও আশপাশের সড়কে যানজটের শঙ্কা, আগেভাগে বের হওয়ার অনুরোধ ইউএস-বাংলার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular