২০/০৬/২০২৬
৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ভিএইচপির বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

বাংলাদেশ হাইকমিশন দিল্লি

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ময়মনসিংহে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যার ঘটনার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাইরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)’–এর ব্যানারে আয়োজিত এক বিক্ষোভ চলাকালে একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি পুলিশকে অতিরিক্ত সতর্কতা ও শক্ত অবস্থান নিতে দেখা যায়।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েক’শ বিক্ষোভকারী বাংলাদেশ হাইকমিশনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ একাধিক ব্যারিকেড বসিয়ে তাদের আটকে দেয়। তবে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বাধা উপেক্ষা করে ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যায়। এতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিএইচপি আগে থেকেই এই কর্মসূচির ঘোষণা দিলে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। হাইকমিশনের চারপাশে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়। দ্য হিন্দু জানিয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়, যেখানে দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্বে রাখা হয়।
এনডিটিভি জানিয়েছে, কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড ভেঙে কূটনৈতিক স্থাপনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তারা অন্তত দুই স্তরের ব্যারিকেড অতিক্রম করেন। এ সময় অনেককে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়।
দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি সংবেদনশীল হওয়ায় শুরু থেকেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে নয়াদিল্লির ঘটনার আগের দিন সোমবার ভারতের বিভিন্ন শহরেও বাংলাদেশ মিশন ও ভিসা সেন্টারকে ঘিরে বিক্ষোভ হয়। কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সামনে এবং শিলিগুড়িতে ভিসা সেন্টারের সামনে একাধিক সংগঠন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি ও আগরতলার ভিসা সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই দিনে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফটকেও ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার নোটিশ টানানো হয়।
কলকাতায় সোমবার তিন দফায় বিক্ষোভ হয়। এর একটি কর্মসূচিতে বিজেপি এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ‘হিন্দু সনাতনীরা’ নামে একটি সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন। পুলিশ তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে শিলিগুড়িতে ভিসা সেন্টারের সামনে বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের পতাকা সংযুক্ত একটি ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলেন। পরে ওই ফ্লেক্স ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকায় আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন ভিসা সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করে দায়িত্বরত কর্মীদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, নয়াদিল্লি, কলকাতা ও অন্যান্য স্থানে বাংলাদেশ মিশন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মিশন ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভারতজুড়ে বাংলাদেশ মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় জরুরি হয়ে 

Read Previous

ডিজিটাল সেবায় এগিয়ে নভোএয়ার, অর্জন করলো “এক্সিলেন্স ইন বিজনেস–২০২৫” সম্মাননা

Read Next

২৫ ডিসেম্বর যাত্রীদের আগেভাগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আহ্বান বিমান বাংলাদেশের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular