
নিজস্ব প্রতিবেদক।পর্যটন সংবাদ :আগামী বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়কে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকা, বিমানবন্দর থেকে গুলশানগামী সড়ক এবং পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, যা সাধারণভাবে ৩০০ ফিট সড়ক নামে পরিচিত, সেখানে ব্যাপক জনসমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে নির্ধারিত ফ্লাইটের অনেক আগেই বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২৫ ডিসেম্বর রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক বেশি যানচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এতে করে বিমানবন্দরমুখী যাত্রীরা সময়মতো টার্মিনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স তাদের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানায়, যাত্রীদের সুবিধা এবং ফ্লাইট পরিচালনায় সময়সূচি ঠিক রাখতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্ভাব্য যানজটের কারণে চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও বোর্ডিং প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলে যাত্রীরা ফ্লাইট মিস করতে পারেন, যা পরবর্তীতে বাড়তি জটিলতা সৃষ্টি করবে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার আগমন উপলক্ষে রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরমুখী হতে পারেন। বিশেষ করে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়ককে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সমাবেশ বা জমায়েতের সম্ভাবনার কথা আলোচনায় রয়েছে। এই কারণেই সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যানচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানবন্দর এলাকা এমনিতেই রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত অঞ্চল। এর সঙ্গে যদি রাজনৈতিক কর্মসূচি বা বড় জনসমাগম যুক্ত হয়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই যানজট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। ফলে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারীরাও সমস্যায় পড়তে পারেন।
এদিকে, যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানো বাধ্যতামূলক হলেও যানজটের কারণে সময়ের হিসাব করা কঠিন হয়ে যায়। এ অবস্থায় এয়ারলাইন্সগুলোর আগাম সতর্কতা যাত্রীদের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় রাজনৈতিক ঘটনা বা নেতার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীতে এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। তবে আগেভাগে সতর্কতা জানানো হলে যাত্রীরা নিজেদের সময়সূচি অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে পারেন। এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের চাপ কমে, অন্যদিকে এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট পরিচালনাও তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।
সব মিলিয়ে, ২৫ ডিসেম্বর সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে যাওয়া যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পরামর্শ হচ্ছে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে বাসা থেকে বের হওয়া, সম্ভাব্য বিকল্প সড়কের তথ্য আগেই জেনে নেওয়া এবং এয়ারলাইন্সের নির্দেশনা মেনে চলা। এতে করে অপ্রত্যাশিত যানজটের মধ্যেও ভ্রমণ কিছুটা হলেও নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদক : মুহাম্মদ শফিকুল আশরাফ



