১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাইকোর্টের রায়ে মসৃণ হলো ড. এম এ কাইয়ুমের নির্বাচনী পথ: ঢাকা-১১ আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব অভিযোগ খারিজ

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ১১ নম্বর আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছে। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং তথ্য গোপনের অভিযোগে দায়ের করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ড. কাইয়ুমের প্রার্থিতার পথে আর কোনো আইনি বাধা অবশিষ্ট নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। এই ঘটনা আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে, যেখানে বিএনপি এবং ১১ দলীয় জোটের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তটি রিটকারী নাহিদ ইসলামের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে, যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী। নাহিদ ইসলামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, ড. কাইয়ুম দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, যা নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন। কিন্তু আদালত এই অভিযোগগুলোকে যথেষ্ট প্রমাণসমর্থিত না মনে করে রিটটি খারিজ করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করতে পারে।

আদালতে শুনানির সময় রিটকারীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু এবং অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা। তারা দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগকে জোরালো করে তুলে ধরার চেষ্টা করেন, যাতে প্রার্থিতা স্থগিতের দাবি জোরদার হয়। অন্যদিকে, ড. কাইয়ুমের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান এবং ব্যারিস্টার কাজী আক্তার হোসেন। এই আইনজীবী দল অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন এবং আদালতকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করার জন্য অনুরোধ করেন। শুনানির মাধ্যমে উভয় পক্ষের যুক্তি-প্রতিযুক্তি একটি জমজমাট আইনি লড়াইয়ের রূপ নেয়, যা হাইকোর্টের মতো উচ্চতর আদালতে সাধারণত দেখা যায়। এই ধরনের মামলাগুলোতে আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা নির্বাচনী অধিকার এবং সাংবিধানিক নিয়মাবলীর সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকেন।

এই রিটটি দায়ের করা হয়েছিল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি), যখন নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থিতা স্থগিতের দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়। নাহিদ ইসলামের পক্ষে রিট দায়ের করেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা এবং অ্যাডভোকেট আলী আজগর শরীফী। তারা যুক্তি দেখান যে, ড. কাইয়ুমের মনোনয়নপত্রে তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কিন্তু হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত এই দাবিগুলোকে অগ্রাহ্য করে, যা নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। এর আগে, নির্বাচন কমিশন উভয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিল, যা এই মামলার পটভূমি তৈরি করে।

ঢাকা-১১ আসনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে আছে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত ড. এম এ কাইয়ুম দলের ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত, যিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, নাহিদ ইসলাম ১২ দলীয় জোটের (পরে ১১ দলীয় বলে উল্লেখিত) প্রার্থী হিসেবে এনসিপির আহ্বায়ক, যিনি জাতীয়তাবাদী এবং নাগরিক অধিকারের পক্ষে লড়াই করছেন। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াইটি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং দলীয় জোটের শক্তি প্রদর্শনের একটি মাধ্যম। বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় এমন অভিযোগ এবং আইনি চ্যালেঞ্জ সাধারণ, যা প্রায়ই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হয়ে ওঠে। তবে হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতাকে শক্তিশালী করে, যাতে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব তাদের উপরই থাকে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নির্বাচনী আইনের কিছু দিক উল্লেখ করা যায়। নির্বাচনী নিয়মাবলী অনুসারে, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে সকল ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে প্রকাশ করতে হয়, যার মধ্যে নাগরিকত্বের বিষয় অন্যতম। দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম রয়েছে, যা অনেক প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। কিন্তু এই মামলায় আদালত দেখিয়েছে যে, অভিযোগগুলোকে প্রমাণ করতে হলে যথেষ্ট দলিলপত্র দরকার, যা এখানে অনুপস্থিত ছিল। এই সিদ্ধান্তটি অন্যান্য আসনের প্রার্থীদের জন্যও একটি নজির হিসেবে কাজ করতে পারে, যাতে অপ্রয়োজনীয় আইনি হয়রানি কমানো যায়।

সামগ্রিকভাবে, এই আদেশ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ঢাকা-১১ আসনের ভোটাররা এখন উভয় প্রার্থীর প্রচারণা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, এই ধরনের মামলাগুলো নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ করে তোলে, কিন্তু একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও সতর্ক করে। আসন্ন নির্বাচনে এই আসনটি কোন দলের দখলে যাবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ড. কাইয়ুমের প্রচারণাকে নতুন গতি প্রদান করবে, যা বিএনপির জন্য একটি জয় হিসেবে গণ্য হতে পারে।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও একটি অধ্যায় যোগ করেছে, যেখানে আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা একসঙ্গে মিলে যায়। ভবিষ্যতে এমন আরও মামলা দেখা যেতে পারে, কিন্তু এই সিদ্ধান্তটি প্রমাণ করে যে, আদালত নিরপেক্ষভাবে কাজ করে চলেছে।

Read Previous

বিমান এয়ারলাইন্সের এমডি-সিইওর বিরুদ্ধে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: দম্পতিসহ চারজন গ্রেপ্তার, জেল হাজত

Read Next

র‌্যাব পুনর্গঠনে বড় সিদ্ধান্ত, নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular