১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হজ ভিসা প্রক্রিয়ায় কড়া সময়সীমা: ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নথি জমার নির্দেশ, না মানলে জটিলতার আশঙ্কা

পবিত্র হজ

ফাইল ছবি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে আগ্রহী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য সময়ের চাপ স্পষ্টভাবে বেড়ে গেছে। সৌদি আরবের নতুন ডিজিটাল হজ ব্যবস্থাপনা কাঠামোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হজসংক্রান্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট ও কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিলে ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্বসহ নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সৌদি সরকারের ‘নুসুক মাসার’ সিস্টেম। হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সৌদি আরব এ সিস্টেম চালু করেছে। এর আওতায় প্রতিটি হজযাত্রীর বায়োমেট্রিক তথ্য, ব্যক্তিগত ডেটা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত সব তথ্য এন্ট্রি সম্পন্ন করার জন্য ৮ ফেব্রুয়ারিকে চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে বেঁধে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশকেও তার আগেই সব প্রস্তুতি শেষ করতে হচ্ছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টিকে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার জন্য ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি জমা না পড়লে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর ভিসা ইস্যুতে দেরি হতে পারে, এমনকি শেষ পর্যন্ত ভিসা না পাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এ কারণে হজযাত্রীদের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নথি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে হজযাত্রীদের অবস্থান অনুযায়ী আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকার বাইরে বসবাসকারী হজযাত্রীদের নিজ নিজ জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। অন্যদিকে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার হজযাত্রীদের রাজধানীর আশকোনায় অবস্থিত হজ অফিসে সরাসরি উপস্থিত হয়ে নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে করে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যে নথিগুলো জমা দিতে হবে তার মধ্যে রয়েছে মূল পাসপোর্ট, হজ নিবন্ধন শংসাপত্রের একটি কপি এবং সৌদি ভিসা বায়ো অ্যাপ থেকে প্রাপ্ত বায়োমেট্রিক নম্বর। পাশাপাশি হজযাত্রীদের বৈবাহিক অবস্থা, পেশা বা কর্মসংস্থানের তথ্য এবং সাম্প্রতিক ভ্রমণের ইতিহাসও জানাতে হবে। এসব তথ্য সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে সংরক্ষিত হবে, যা নিরাপত্তা যাচাই ও হজ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

হজ ব্যবস্থাপনায় জড়িত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগের বছরগুলোতে শেষ মুহূর্তে নথি জমা দেওয়ার প্রবণতার কারণে অনেক হজযাত্রীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ভিসা জটিলতা, ফ্লাইট সূচি পরিবর্তন এবং হজ প্যাকেজ ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগেভাগেই কড়া সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

এই জরুরি বিজ্ঞপ্তির কপি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ হজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে পাঠানো হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং হজযাত্রীদের তথ্য দ্রুত সৌদি কর্তৃপক্ষের সিস্টেমে আপলোড করা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে যথাযথ অফিসে জমা দেওয়াই হবে নির্বিঘ্ন হজযাত্রার প্রথম শর্ত। সময়সীমা মেনে চললেই এড়ানো যাবে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, দুশ্চিন্তা এবং শেষ মুহূর্তের অনিশ্চয়তা।

Read Previous

মুদ্রার চাপের মধ্যেও বাংলাদেশের বিমান টিকিট বাজারে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি

Read Next

ঢাকায় ইন্দোনেশিয়ার ভিসা আবেদনে বড় পরিবর্তন, চালু হলো বাধ্যতামূলক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular