
নিজস্ব প্রতিবেদক | পর্যটন সংবাদ: রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থী ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পাঁচদিন পর, রোববার (৩ আগস্ট) মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ঢাবির চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ-উল-ইসলামের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ১২ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৩ জনকে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে লালমাটিয়ার ডি-ব্লক মাঠে বসা অবস্থায় কিশোর গ্যাংয়ের প্রায় ১০-১২ জন সদস্য তাদের ওপর হামলা চালায়।
সাজিদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সেদিন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাসমিয়া তাবাসসুম নেবুলাসহ দুই বন্ধুর সঙ্গে প্রদর্শনী দেখে লালমাটিয়ায় যান। সেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী অনুরাভ আশরাফ রাজ্য ও চারুকলার শিক্ষার্থী রাফিদুল হক রাহিমের সঙ্গে দেখা হলে সবাই একসঙ্গে বসেন। কিছুক্ষণ পর ১০-১২ জন কিশোর এসে তাদের বন্ধুদের ব্যাগ ছুড়ে মারে এবং স্থান ত্যাগ করতে বলে।
তারা প্রতিবাদ করলে কিশোররা নিজেদের ‘এলাকার প্রভাবশালী’ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা অতর্কিতে মারধর শুরু করে এবং অনুরাভ আশরাফ রাজ্যকে পিঠে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। অন্যদেরও মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।
সাজিদ বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসে ছিলাম। কোনো কারণ ছাড়াই তারা এসে ঝামেলা শুরু করে। যখন বলি, এমন আচরণ অনুচিত—তখনই তারা হামলা করে।”
হামলায় নেতৃত্ব দেন বলে মামলায় অভিযোগ উঠেছে এস কে আবির নামে একজনের বিরুদ্ধে। তার নির্দেশেই বাকিরা হামলায় অংশ নেয় বলে সাজিদের দাবি। নাম উল্লেখ করা বাকি আসামিরা হলেন: মিমোন খান, সিয়াম, মিনহাজ, শুকুর, সাজ্জাদ, একরামুল, সুজন, বায়েজিদ, সুমন, হৃদয় ও ইয়াছিন।
ঘটনার পর আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং যাবার আগে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়।
আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত চলছে
মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, “মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। হামলার পেছনে কী কারণ ছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।”
এদিকে, তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, “এ ঘটনাকে আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও তদন্ত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট টিম কাজ করছে।



