২০/০৬/২০২৬
৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালের ভাসমান পেয়ারা বাজারে পর্যটকদের ভিড়, জলপথে গ্রামীণ জীবনের অনন্য অভিজ্ঞতা

পর্যটন সংবাদ প্রতিবেদক: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অপরূপ এক প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হলো বরিশালের ভাসমান পেয়ারা বাজার। গাভার, স্বরূপকাঠি, বানারীপাড়া ও পিরোজপুরের জলাভূমি অঞ্চলে গড়ে ওঠা এই ভাসমান হাট শুধু পেয়ারা বেচাকেনার কেন্দ্র নয়—এটি হয়ে উঠেছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য।

কোথায় এই বাজার?

বরিশাল জেলার বানারীপাড়া ও স্বরূপকাঠি উপজেলার অন্তর্গত বিভিন্ন খাল-নদী, বিশেষ করে ভীমরুলি, আটঘর, নেছারাবাদ ও আঁউলিয়া খালে ভাসমান পেয়ারা বাজার গড়ে উঠেছে। বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৌসুমে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে এই অনন্য হাট।

বাজারের বৈশিষ্ট্য

এ হাটে কৃষকরা নৌকায় করে পেয়ারা, আমড়া, কাঁঠাল ও নানা মৌসুমি ফল নিয়ে আসেন। স্থানীয় ভাষায় একে বলে “ভাসমান হাট”—যেখানে বিক্রি হয় শুধু নৌকার উপর থেকে। শতাধিক নৌকার সমাগমে গড়ে ওঠে ভ্রাম্যমাণ ফলের মেলা।

খালের একপাশে সারি সারি নৌকা—প্রতিটিই একেকজন কৃষকের দোকান। খালের জলই যেন এখানকার রাস্তা, আর পানির বুকে খেলা করে গ্রামীণ জীবনের ছায়া।

পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ভাসমান বাজার পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই এখানে আসেন ভোরবেলা, নৌকা ভাড়া করে পানিতে ভেসে ভেসে উপভোগ করেন স্থানীয় কৃষকদের বেচাকেনা, ফল চেনা, আর ছবি তোলা।

স্থানীয় নৌকাচালক ও হোটেল মালিকরা জানিয়েছেন, জুলাই-অগাস্টে পর্যটকের ভিড় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ঢাকা, চট্টগ্রাম, এমনকি বিদেশ থেকেও অনেকে এসে এই হাট ঘুরে যান।

কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে বরিশাল সড়ক, নদী বা আকাশপথে পৌঁছে সেখান থেকে গাড়ি বা লঞ্চে বানারীপাড়া বা স্বরূপকাঠি। এরপর স্থানীয়ভাবে নৌকা ভাড়া করে হাটে যাওয়া যায়। চাইলে ভাসমান হোটেল বা স্থানীয় গেস্টহাউসে রাত্রিযাপন করেও পুরো অভিজ্ঞতা উপভোগ করা যায়।

ট্যুরিস্টদের জন্য টিপস:

ভোরে গেলে বাজার সবচেয়ে সরগরম থাকে।
ছোট নৌকা ভাড়া নিয়ে ঘুরলে অভিজ্ঞতা আরও বাস্তবধর্মী হয়।
স্থানীয়দের কাছ থেকে পাকা পেয়ারা কিনে খাওয়ার সুযোগ মিস করবেন না।
বর্ষাকালে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
ছবি তোলার সময় স্থানীয়দের সম্মতি নেওয়া ভদ্রতা।

পর্যটকদের অভিমত:

ঢাকা থেকে আগত এক পর্যটক বলেন, “ইউরোপে ভেনিস আছে, আমাদের আছে ভাসমান পেয়ারা বাজার। এটা শুধু হাট নয়, পুরো একটা কালচার।”

সরকারি উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:

পর্যটন কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে এই অঞ্চলকে ‘কমিউনিটি বেসড ট্যুরিজম’ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সমর্থন করতে গাইড প্রশিক্ষণ ও নৌকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

Read Previous

ভুটান ভ্রমণের সোনালি সুযোগ: শান্ত পাহাড়ি রাজ্যের পর্যটনে নতুন দিগন্ত

Read Next

লালমাটিয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ঢাবি ও জবি’র চার শিক্ষার্থী আহত, মামলা দায়ের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular