
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সিলেট হয়ে ঢাকা–ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থার এমন ঘোষণায় যাত্রীদের মধ্যে বিস্ময় ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, কারণ সংশ্লিষ্ট রুটটি প্রাথমিক লোকসান কাটিয়ে উঠে ইতোমধ্যে লাভজনক অবস্থানে পৌঁছেছিল। তাছাড়া এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই রুটে শক্তিশালী অগ্রিম বুকিং থাকার তথ্যও সামনে এসেছে, যা সিদ্ধান্তটির সময় ও যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজ সংকট, আসন্ন হজ কার্যক্রমের প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কারণে নেটওয়ার্ক জুড়ে বিমানের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, পরিচালন দক্ষতা বজায় রাখতে গিয়ে কিছু রুটে সাময়িক সমন্বয় আনা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার রুটের যাত্রীদের জন্য ঢাকা–লন্ডন–ঢাকা রুটে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হবে।
তবে বিমান চলাচল খাতের বিশেষজ্ঞরা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তাদের মতে, যখন একটি রুট আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং উচ্চ চাহিদার মৌসুমে প্রবেশ করছে, তখন সেটি বন্ধ করা বাণিজ্যিকভাবে যুক্তিসংগত নয়। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল সময়টি প্রবাসী যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে। এই সময় বিবাহ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং পারিবারিক সফরের জন্য ইউকে থেকে বাংলাদেশে যাতায়াত বাড়ে। ফলে লাভজনক একটি রুট বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে তারা অপরিণত ও দূরদর্শিতার অভাব হিসেবে দেখছেন।
ম্যানচেস্টার ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এই রুট ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের এই অঞ্চলে এক লক্ষেরও বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস, যাদের বড় একটি অংশের শিকড় সিলেট বিভাগে। সিলেট হয়ে সরাসরি ম্যানচেস্টার ফ্লাইট তাদের জন্য সময় ও খরচ—দু’দিক থেকেই সুবিধাজনক ছিল। ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন তাদের লন্ডন কিংবা অন্য ইউরোপীয় হাব ব্যবহার করে বাড়তি ঝামেলা ও ব্যয়ের মুখে পড়তে হবে।
ইতোমধ্যে যারা টিকিট কেটেছেন, তাদের জন্য ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তন কিংবা অর্থ ফেরতের সুযোগ রাখার কথা জানিয়েছে বিমান। যাত্রীরা ঢাকার প্রধান কার্যালয়, লন্ডন বিক্রয় অফিস, কল সেন্টার অথবা অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও কবে নাগাদ ম্যানচেস্টার রুটে আবার নিয়মিত ফ্লাইট চালু হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি।
এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু প্রবাসী পরিবার নয়, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়িক যাত্রীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় ভ্রমণের সময় বেড়ে যাবে, ট্রানজিট ঝুঁকি বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে যাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে। অনেকের মতে, জাতীয় বিমান সংস্থার উচিত ছিল জনপ্রিয় ও লাভজনক রুটগুলো ধরে রেখে অন্যখানে সমন্বয় আনা।
সব মিলিয়ে, সিলেট–ম্যানচেস্টার রুট স্থগিতের সিদ্ধান্ত বিমানের পরিচালন কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। যেখানে চাহিদা, বুকিং এবং প্রবাসী নির্ভরতা স্পষ্ট, সেখানে এমন সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে সংস্থার ভাবমূর্তি ও যাত্রী আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, এই সমালোচনা ও যাত্রী চাপের মুখে বিমান কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে কি না।



