২০/০৪/২০২৬
৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় অগ্রগতি, ‘ফ্রেমওয়ার্ক ডিল’ আসছে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য ইস্যুতে

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আলোচনায় দুই দেশ প্রায় সব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে ‘পর্যটন সংবাদ’-কে তিনি জানান, ওয়াশিংটন ডিসিতে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের (ইউএসটিআর) সঙ্গে বৈঠক শেষে তাকে ই-মেইলের মাধ্যমে কিছু পণ্যের তালিকা পাঠানো হয়েছে, যেগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র শুল্কমুক্ত সুবিধা চায়।

তিনি বলেন, “তালিকাটি অনেক বড়। তুলা, গম, সয়াবিন বীজ ও তেলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানিতে বাংলাদেশ আগে থেকেই শুল্ক ছাড় দিচ্ছে।”

তবে নতুন তালিকায় থাকা পণ্যগুলোতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত এককভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার নয়। এ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে আগামী শনিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩৫ শতাংশ ‘ট্রাম্প-শুল্ক’ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই দুই দেশ পরবর্তী আলোচনায় বসবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ১০ থেকে ২০ শতাংশ শুল্কহার প্রস্তাব করেছে।

উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসে। এর পরপরই বাংলাদেশ উড়োজাহাজ, এলএনজি, তুলা, গম ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের আমদানি বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার আগ্রহ জানায়।

এ বিষয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনও আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে এসেছেন।

এদিকে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধু শুল্ক নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিক বিবেচনা করেই আলোচনা করছে। তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র চায় একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক ডিল’, যেখানে শুল্ক ও নন-ট্যারিফ ছাড়াও নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো স্থান পাবে।”

তিনি আরও জানান, ওয়াশিংটন ও ঢাকার মধ্যে এ বিষয়ে একটি কাঠামো প্রস্তুত হচ্ছে এবং বিষয়টি সক্রিয় আলোচনার মধ্যে রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে থাকে। গত অর্থবছরে আট বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, বিপরীতে আমদানি করেছে দুই বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি ব্যালান্সড শুল্কনীতি ও কৌশলগত চুক্তি হলে তা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Read Previous

ঢাকা, খুলনা ও বরিশালে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

Read Next

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি হুমকি: আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার পথে সুইস বিনিয়োগকারী গ্রুপ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular