
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: যশোরে টানা ভারি বর্ষণে মৎস্যখাতে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। জেলা মৎস্য অফিসের হিসাব অনুযায়ী, এবার ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ঘের, পুকুর ও বিল তলিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ ও পোনা ভেসে গেছে।
মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮ উপজেলায় মোট ৬ হাজার ২১৯টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সদর উপজেলায়—৩ হাজার ১২৭টি খামার। ক্ষতিগ্রস্ত চাষির সংখ্যা ৫ হাজার ৪০৮ জন এবং পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ ৪ হাজার ৭৮১ হেক্টর।
ভারী বর্ষণে ৫ হাজার ৩৪১ টন মাছ ও ৮৩০ লাখ পোনা ভেসে গেছে। এর আর্থিক ক্ষতি—মাছে ১০৪ কোটি ৮ লাখ, পোনায় ১৮ কোটি ৯৫ লাখ এবং অবকাঠামোগত ক্ষতিতে প্রায় ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। স্থানীয় চাষিরা বলছেন, গত চার দশকের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় ক্ষতি।
ফিরোজ মৎস্য হ্যাচারির মালিক ফিরোজ খান জানান, “১৯৭১ সালের পর এমন ভারি বর্ষণ আর হয়নি। ক্ষতির পরিমাণ কল্পনার বাইরে চলে গেছে। এভাবে কয়েক বছর চলতে থাকলে অনেকে মাছ চাষ বন্ধ করে দেবে।”
যশোর জেলা মৎস্য চাষি সমিতির সভাপতি জাহিদুর গোলদার বলেন, “খাবারের দাম, অতিবৃষ্টি, খরা—সব মিলিয়ে চাষিরা বছরের পর বছর ক্ষতির মুখে। বিদ্যুতের রেটও কৃষি খাত থেকে শিল্প খাতে উন্নীত করায় ব্যয় বেড়েছে। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তা জরুরি।”
জেলা মৎস্য অফিসার সরকার মুহাম্মদ রফিকুল আলম জানান, ক্ষতির পরিমাণ রেকর্ড ছাড়িয়েছে। কৃষকদের জন্য প্রণোদনার আবেদন করা হলেও এখনো আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে বিদ্যুতের রেট কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যশোরে ২ লাখ ৪৫ হাজার টন মাছ উৎপাদিত হয়েছিল, যেখানে স্থানীয় চাহিদা ছিল মাত্র ৬৫ হাজার টন। উদ্বৃত্ত ১ লাখ ৮০ হাজার টনেরও বেশি মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়েছিল। এবারের বিপর্যয় সেই ধারাবাহিকতায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।



