১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপদাহ ও দাবানল, পর্যটন খাতে বড় ধাক্কা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ও তীব্র তাপদাহে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন, বহু পর্যটন এলাকা খালি করে দেওয়া হয়েছে।

ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল এবং বলকান অঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে পৌঁছায়। স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে জারি করা হয়েছে ‘রেড হিট অ্যালার্ট’। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, স্পেনের সেভিয়া ও কর্ডোভা এবং দক্ষিণ পর্তুগালে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে।

স্পেনের মাদ্রিদের কাছে ত্রেস কান্তোস এলাকায় ঘণ্টায় ৭০ কিমি বেগে বইতে থাকা বাতাসে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। শত শত বাসিন্দা ও পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আন্দালুসিয়ার তারিফা শহরের সমুদ্রসৈকত এলাকায় হোটেল ও গেস্টহাউস খালি করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে পর্যটন মৌসুম বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

পর্তুগালে ত্রানকোসো অঞ্চলের দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৩০০ দমকলকর্মী ও ১৪টি বিমান কাজ করেছে। মরক্কো থেকেও বিমান পাঠানো হয়। ইতালির রোম, মিলান ও ফ্লোরেন্সসহ অন্তত ১০টি শহরে তাপদাহের সতর্কতা জারি রয়েছে। সার্ডিনিয়া দ্বীপে হিটস্ট্রোকে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়।

ফ্রান্সের প্যারিস ও রোন উপত্যকা অঞ্চলেও তাপমাত্রা ৩৬-৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। গ্রিসে ১৫০টিরও বেশি দাবানল জ্বলছে, যার প্রভাবে জাকিনথস দ্বীপ ও পশ্চিম আচাইয়ার বহু পর্যটন স্পট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপকূলীয় কিছু এলাকা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তুরস্ক, মন্টেনেগ্রো, আলবেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার কিছু অংশেও দাবানলে পর্যটন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সৈকত, প্রাকৃতিক উদ্যান ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে গ্রীষ্ম ক্রমেই গরম ও শুষ্ক হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি দাবানল মৌসুম তৈরি করছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটন খাতও বড় ক্ষতির মুখে পড়ছে।

Read Previous

যশোরে অতিবৃষ্টিতে রেকর্ড ক্ষতি, মৎস্যখাত বিপর্যস্ত

Read Next

মালয়েশিয়ায় সম্মানসূচক ডক্টরেট পেলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular