
বান্দরবান প্রতিনিধি, পর্যটন সংবাদ: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভান্ডার বান্দরবান। এই পাহাড়ি জেলার গহীনে লুকিয়ে আছে অসংখ্য ঝর্ণা, যার মধ্যে একটি হলো দামতুয়া ঝর্ণা—যা স্থানীয়দের কাছে ‘তুক-অ-ঝিরি’ বা ‘লামোনই ঝর্ণা’ নামেও পরিচিত। রোমাঞ্চ, অ্যাডভেঞ্চার আর অনাবিষ্কৃত প্রকৃতির খোঁজে যারা বের হন, তাদের জন্য এটি যেন এক স্বপ্নের গন্তব্য।
কোথায় অবস্থিত
দামতুয়া ঝর্ণা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার মুরং পাড়ায় অবস্থিত। চারপাশে উঁচু পাহাড়, ঘন বন আর ঝিরিপথে ঘেরা এই জলপ্রপাতের দিকে যেতে হয় দীর্ঘ পথ পেরিয়ে। মূল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে এর নির্জনতা এবং বিশাল জলপ্রপাতের শব্দে।
যাওয়া যাবে কীভাবে
ঢাকা থেকে সরাসরি আলীকদমগামী বাস পাওয়া যায় গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে, ভাড়া আনুমানিক ৮৫০ টাকা। আলীকদমের পান বাজার থেকে মোটরসাইকেল বা স্থানীয় যানবাহনে যেতে হবে আদু-মুরংপাড়া পর্যন্ত (ভাড়া ২৫০-৩০০ টাকা)।
পথে একটি সেনা চেকপোস্ট আছে, যেখানে নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিতে হয় এবং বিকেল ৫টার আগে ফিরে আসার শর্ত থাকে।
ট্রেকিং অভিজ্ঞতা
আদু-মুরংপাড়া থেকে ঝর্ণা পর্যন্ত প্রায় ১২-১৩ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়। এই যাত্রা সহজ নয়—ঝিরিপথ, পাহাড়ি চড়াই, পিচ্ছিল পাথর আর ঘন বনের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। সময় লাগে প্রায় ৬ ঘণ্টা। নিরাপত্তা ও সঠিক দিক নির্দেশনার জন্য স্থানীয় গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক, যার জন্য খরচ হয় ৫০০-১০০০ টাকা।
ঝর্ণার সৌন্দর্য
দামতুয়া ঝর্ণা বর্ষার পর সবচেয়ে বেশি জলধারায় ভরপুর থাকে। উঁচু পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির গর্জন চারপাশের বনজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়। আশেপাশে কোনো জনবসতি নেই, ফলে এখানে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির কোলাহলহীন শব্দ শোনা যায়—যা শহুরে জীবনে বিরল।
পর্যটকদের জন্য পরামর্শ
- বয়স্ক বা খুব ছোট শিশু নিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ
- গ্রিপযুক্ত জুতা, পর্যাপ্ত পানি, হালকা খাবার, স্যালাইন ও প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী সঙ্গে রাখা জরুরি
- বর্ষায় যেতে হলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, কারণ পথ তখন পিচ্ছিল হয়
- মোবাইল চার্জ এবং পাওয়ার ব্যাংক প্রস্তুত রাখুন, পথে বিদ্যুৎ নেই
কেন যাবেন
দামতুয়া ঝর্ণা শুধু একটি প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতা—যেখানে পৌঁছাতে কষ্ট করতে হয়, কিন্তু পুরস্কার হিসেবে পাওয়া যায় অপরূপ দৃশ্য আর প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সংযোগ। যারা ভ্রমণে রোমাঞ্চ খোঁজেন, তাদের জন্য দামতুয়া নিঃসন্দেহে একটি অবশ্যগম্য স্থান।



