
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : যমুনা রেলসেতুর পিলারে চুলাকৃতি ফাটলের মতো কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলো ঘিরে অনেকে নির্মাণ কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দুর্নীতির অভিযোগ করছেন। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলছেন—যা দেখা যাচ্ছে, তা ফাটল নয়; বরং প্রচণ্ড গরমের কারণে সৃষ্ট স্বাভাবিক ‘হেয়ার ক্র্যাক’ বা চুলাকৃতি ফাঁকা, যা সেতুর স্থায়িত্ব বা ট্রেন চলাচলে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
শুক্রবার সকালে যমুনা রেলওয়ে সেতু প্রকল্পের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী নাইমুল হক জানান, সেতুর পশ্চিম প্রান্তের আট থেকে দশটি পিলারের নিচের অংশে সূক্ষ্ম ফাঁকা চোখে পড়েছে। এর গভীরতা মাত্র শূন্য দশমিক এক থেকে তিন মিলিমিটার, যা ঘষে রেজিন বা বিশেষ আঠা দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এটি কোনো কাঠামোগত ত্রুটি নয়, আবার হানিকম্বও না। প্রচণ্ড গরমের কারণে এমন ক্ষুদ্র ফাঁকা দেখা দিতে পারে। বিষয়টি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেউ কেউ ছবি বড় করে পোস্ট দিয়ে ভুল ধারণা তৈরি করছেন।”
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেতুর কয়েকটি পিলারের ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে ফাটলের মতো চিহ্ন দেখা যায়।
যমুনা রেলসেতুটি উদ্বোধন করা হয় চলতি বছরের ১৮ মার্চ। ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকায় নির্মিত এই সেতুর ৭২ শতাংশ অর্থায়ন করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), বাকিটা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। জাপানের দুটি প্রতিষ্ঠান—ওটিজি ও আইএইচআই—যৌথভাবে সেতুটি নির্মাণ করেছে।
৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু দেশের ইতিহাসে প্রথম ডাবল ট্র্যাক ডুয়েল গেজ রেলসেতু। এটি উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।
প্রকৌশলীদের ভাষায়, “যমুনা রেলসেতু এখনো সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর। ফেসবুকে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর পোস্টে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।”



