
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ভাড়া মামলায় সাবেক বিচারপতি এ এফ এম মেজবাউদ্দিনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দায়ের করা এই মামলায় মোট ২২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানিয়েছেন, আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের পর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। বাকি ১৮ জনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা অন্য আসামিরা হলেন— বিমানের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদ, সাবেক পরিচালক ফজলে কবির, খোরশেদ আলম চৌধুরী, আবু এসরার, আবুল হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইকবাল আহমেদ।
জামিনে থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিমানের সাবেক পরিচালক ক্যাপ্টেন ইশরাত আহমেদ, সাবেক ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল আলম সিদ্দিক, প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার শহীদ উদ্দিন হানিফ, দেবেশ চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন প্রকৌশলী কর্মকর্তা। অপরদিকে, তদন্তে অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ায় সাবেক সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সফিউল আজম, দেওয়ান রাশেদ উদ্দিন, আব্দুল কাদির ও ইন্সপেক্টর গোলাম সারওয়ারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মামলার পটভূমি
ইজিপ্ট এয়ার থেকে পাঁচ বছরের জন্য দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়া হয় ২০১৪ সালে। দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল ২০১৩ সালে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৯ সাল পর্যন্ত উড়োজাহাজ দুটি ব্যবহারের কথা ছিল, তবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও পরিচালন ব্যর্থতায় ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত হয়ে পড়ে।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি উড়োজাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। কিছুদিন পর অন্য ইঞ্জিনটিও নষ্ট হয়ে যায়। উড়োজাহাজ সচল রাখতে আবারও ইজিপ্ট এয়ার থেকে ইঞ্জিন আনা হয়, যা পরবর্তীতে অকেজো হয়ে পড়ে।
মেরামতের জন্য ইঞ্জিন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হলেও নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ না থাকায় কাজ বিলম্বিত হয়। ফলে ইজিপ্ট এয়ার এবং মার্কিন কোম্পানি উভয়ের কাছেই বিল পরিশোধ করতে হয় বিমান বাংলাদেশকে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় ৭৪১ কোটি টাকা।
অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি
২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপপরিচালক জেসমিন আক্তার এই মামলাটি দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে ২৩ জনকে আসামি করা হয়, যেখানে ১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের মে মাসে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় এবং ১৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
এর মধ্যে বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন জন স্টিল তদন্ত চলাকালীন মারা যান। পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তে পাঠানো হয়, যেখানে সাবেক বিচারপতি মেজবাউদ্দিনসহ নতুন সাতজনের নাম উঠে আসে।
দুদকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে সরকারের ৭৪১ কোটি টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। এই ক্ষতির দায়ে এখন মোট ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন হয়েছে।
এই মামলা এখন দেশের অন্যতম আলোচিত দুর্নীতির মামলাগুলোর একটি। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের হাজির করা হলে মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। দুদক বলছে, সরকারি অর্থ আত্মসাতের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতদের কেউ ছাড় পাবে না, যতই প্রভাবশালী হোক না কেন।



