
প্রেস সচিব শফিকুল আলম
নিজস্ব প্রতিবেদন। পর্যটন সংবাদ : রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে প্রশিক্ষণ বিমানের বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটিকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি। বুধবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাখিল করা হয় এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন। পরবর্তীতে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশিক্ষণ চলাকালীন পাইলট প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণে ব্যর্থ হন এবং উড্ডয়নের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে বিমানটি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে বিধ্বস্ত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সৌভাগ্যক্রমে স্কুল প্রাঙ্গণে ক্লাস চলছিল না, ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে শুরু থেকেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি বিমান বাহিনী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB), এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কাজ করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, বিমানের ইঞ্জিন বা যান্ত্রিক অংশে কোনো ত্রুটি ছিল না—পাইলটের প্রশিক্ষণকালীন ভুল সিদ্ধান্তই দুর্ঘটনার কারণ।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ উড্ডয়নজনিত ত্রুটির ফল।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পর সরকার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, “এখন থেকে বিমান বাহিনীর সব ধরনের ট্রেনিং কার্যক্রম ঢাকার বাইরে স্থানান্তর করা হবে। রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এমন প্রশিক্ষণ আর চালানো হবে না।” তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হচ্ছে—নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা সম্পূর্ণভাবে এড়ানো।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও সুপারিশ করা হয়েছে, প্রশিক্ষণ পাইলটদের জন্য আধুনিক সিমুলেটর ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করা এবং উড্ডয়ন-পূর্ব নিরাপত্তা চেকলিস্ট কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন। এছাড়া, প্রশিক্ষণ বিমানের উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় আবহাওয়ার তথ্য যাচাই এবং যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আরও আধুনিক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, মাইলস্টোন স্কুলের ক্ষতিগ্রস্ত ভবন মেরামত ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাসামগ্রী পুনর্বিন্যাসে বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। স্কুল প্রশাসনও জানিয়েছে, ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মনো-পরামর্শ সেবা চালু করা হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর ঢাকার প্রশিক্ষণ এলাকাগুলো পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে বিমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
সব মিলিয়ে, মাইলস্টোন দুর্ঘটনা এক দুঃখজনক ঘটনা হলেও, এটি সরকারের জন্য নতুন করে নিরাপত্তা কাঠামো পর্যালোচনার সুযোগ এনে দিয়েছে। তদন্তের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।




One Comment
https://shorturl.fm/rmO21