ওয়াশিংটন বিমানবন্দরে বোমা আতঙ্কে ফ্লাইট স্থগিত, তদন্ত শেষে পুনরায় চালু হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ওয়াশিংটন ডিসির রোনাল্ড রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দরে এক অপ্রমাণিত বোমা হুমকির কারণে মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার জন্য ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর বিমান চলাচল পুনরায় চালু করা হয়। এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর না থাকলেও, মার্কিন বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার তৎপরতা ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি আবারও সামনে আসে।

হিউস্টন থেকে রওনা হওয়া ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৫১২–তে বোমা থাকার আশঙ্কার খবর পেয়ে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে রিগ্যান বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট স্থগিত করে। সকাল প্রায় ১১টা ৩০ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলে সেটিকে টার্মিনাল থেকে দূরে একটি বিচ্ছিন্ন এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। বিমানে তখন ৮৯ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রু ছিলেন। সবাইকে দ্রুত সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়।

এফএএ এক বিবৃতিতে জানায়, বিমানে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির খবর পেয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি প্রটোকল চালু করা হয়। যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং বিমানটি টার্মিনাল থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তল্লাশি চালাতে পারে।

বিমানবন্দরের টারম্যাকে তখন ব্যাপক পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি যানবাহনের উপস্থিতি দেখা যায়। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, যাত্রীদের বাসে করে টার্মিনালে নেওয়া হচ্ছে, আর রানওয়ে পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত এই পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি আগত ফ্লাইটকে কাছের ওয়াশিংটন ডুলস এবং বাল্টিমোর বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) রেকর্ডে শোনা যায়, কন্ট্রোলাররা পাইলটকে নির্দেশ দিচ্ছেন বিমানটিকে “একটি পৃথক এলাকায় ট্যাক্সি করানোর জন্য” কারণ সেখানে একটি “অসমর্থিত বোমা রিপোর্ট” পাওয়া গেছে।

এফবিআইয়ের ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পরে তারা জানায়, তল্লাশি চালানোর পর কোনও বিস্ফোরক বা হুমকির উপাদান পাওয়া যায়নি। এক বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, “আমাদের ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রেসপন্স স্কোয়াড ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং এখন পর্যন্ত কোনও বিপজ্জনক কিছু পাওয়া যায়নি। তদন্ত এখনো চলছে।”

এই ঘটনায় মার্কিন পরিবহন সচিব শন ডাফিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেন। তিনি লিখেছেন, “আজ সকালে হিউস্টন থেকে ডিসি-গামী ইউনাইটেড ফ্লাইটে বোমা হুমকির খবর পাওয়া যায়। ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করেছে, যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, আর বিমানটি সম্পূর্ণভাবে তল্লাশি করা হয়েছে। সৌভাগ্যবশত কোনও হুমকি পাওয়া যায়নি। দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য আমি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাহসী সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই।”

প্রায় এক ঘণ্টা তদন্তের পর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বিমানবন্দরের রানওয়ে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। বিকেলের মধ্যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়, যদিও কিছু ফ্লাইট দেরিতে ছাড়ে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স পরে এক বিবৃতিতে জানায়, “সম্ভাব্য নিরাপত্তা উদ্বেগের পরে ইউনাইটেড ফ্লাইট ৫১২ নিরাপদে অবতরণ করেছে। যাত্রীদের নিরাপদে টার্মিনালে নেওয়া হয়েছে এবং বিমানটি পরিদর্শনের পর গেটে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।”

মেট্রোপলিটন ওয়াশিংটন এয়ারপোর্ট অথরিটি, এফবিআই এবং ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন যৌথভাবে ঘটনাটির তদন্ত করছে। তারা নিশ্চিত করেছে যে যাত্রী ও ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ আছেন। তাছাড়া, টার্মিনালে প্রবেশের আগে সবাইকে পুনরায় নিরাপত্তা স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

বিমান চলাচল বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন বিমানবন্দরগুলোতে একাধিক নিরাপত্তাজনিত ঘটনার প্রভাব পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফেডারেল সরকারের শাটডাউনের প্রভাব, যার ফলে হাজার হাজার FAA কর্মচারী বেতন ছাড়াই কাজ করছেন। এই পরিস্থিতি মার্কিন আকাশপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দরটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিরাপত্তা-সংবেদনশীল বিমানবন্দরগুলোর একটি। এটি পোটোম্যাক নদীর তীরে, ওয়াশিংটন ডিসির শহরতলিতে অবস্থিত এবং প্রতিবছর প্রায় ২৪ মিলিয়নেরও বেশি যাত্রী পরিবহন করে। মার্কিন কংগ্রেস ভবন ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছাকাছি হওয়ায় এই বিমানবন্দর সর্বদা কঠোর নিরাপত্তা নজরদারির আওতায় থাকে।

এফবিআই বলেছে, প্রাথমিকভাবে কোনও বিপদ না পাওয়া গেলেও তারা বোমা হুমকির উৎস চিহ্নিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন কাউকে আটক করা হয়নি।

ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন আকাশপথের নিরাপত্তা এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। তবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, পাইলটের বিচক্ষণতা এবং কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে সব ফ্লাইট কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং যাত্রীদের জন্য কোনও চলমান হুমকি নেই। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট বিমানের রুট ও ক্রুদের বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।

মোটের ওপর, এই ঘটনাটি দেখিয়েছে কীভাবে আধুনিক বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা একটি সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে—দ্রুত, সমন্বিত এবং মানবিকভাবে।

Read Previous

মিশর থেকে বিমান ভাড়া অনিয়মে ৭৪১ কোটি টাকার ক্ষতি: সাবেক বিচারপতি মেজবাউদ্দিনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

Read Next

বোয়িংয়ের ডিজিটাল এভিয়েশন ব্যবসা বিক্রি, বিমান শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular