১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন–ভেনেজুয়েলা উত্তেজনায় নতুন অধ্যায়: ছয় বিদেশি বিমান সংস্থার পরিচালনা অধিকার বাতিল, আকাশসীমায় ঝুঁকি বেড়েছে

মার্কিন–ভেনেজুয়েলা উত্তেজনায় নতুন অধ্যায়: ছয় বিদেশি বিমান সংস্থার পরিচালনা অধিকার বাতিল, আকাশসীমায় ঝুঁকি বেড়েছে

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ভেনেজুয়েলা আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজর কাড়ল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে দেশটি ছয়টি বিদেশি বিমান সংস্থার পরিচালনার অধিকার বাতিল করেছে। ফলে ওই সংস্থাগুলোর ভেনেজুয়েলামুখী এবং ভেনেজুয়েলা থেকে পরিচালিত সব ফ্লাইট কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) আকাশসীমা নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করলে। FAA বিমান সংস্থাগুলোকে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় উড়তে হলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলে। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং আশেপাশে সামরিক তৎপরতার বৃদ্ধি।

ভেনেজুয়েলার পাল্টা অবস্থান

এই সতর্কবার্তা ভেনেজুয়েলা মোটেও সহজভাবে নেয়নি। তাদের জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ INAC একে “রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ” এবং “একতরফা চাপ প্রয়োগ” হিসেবে বিবেচনা করেছে। তারা দাবি করে, FAA–এর নোটাম আসলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদমূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করছে।

INAC বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে প্রথমে একটি আল্টিমেটাম দেয়—
ফ্লাইট স্থগিত করা হলে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করা হবে। কিন্তু বিমান সংস্থাগুলো অবস্থান বদল না করায় ভেনেজুয়েলা কঠোর অবস্থানে যায় এবং অবশেষে পরিচালনার অধিকার প্রত্যাহার করে।

কোন বিমান সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলো

প্রাথমিকভাবে তিনটি বড় ইউরোপীয় বিমান সংস্থার নাম নিশ্চিত হয়েছে—

  • আইবেরিয়া
  • TAP এয়ার পর্তুগাল
  • টার্কিশ এয়ারলাইন্স

তারা নিয়মিত কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করত। ৮০ বছরের পুরোনো এই বিমানবন্দরটি ভেনেজুয়েলার মূল আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।

এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার তিনটি বড় ক্যারিয়ার—আভিয়ানকা, জিওএল এবং ল্যাটাম—এর পরিচালনার অধিকারও বাতিল হয়েছে।

এটা কেন ঘটলো

পেছনের দৃশ্যটা আরও বড়। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার উপকূলে ব্যাপক সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। তাদের দাবি, এটি মাদক পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান। কিন্তু নিকোলাস মাদুরো এটাকে সরাসরি ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ১৫,০০০ সামরিক সদস্য এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিমানবাহী রণতরী USS Gerald Ford মোতায়েন হওয়ায় উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে।

FAA এ পরিস্থিতিকেই কেন্দ্র করে আকাশসীমায় সতর্কতা জারি করে। আর সেই সতর্কবার্তার প্রতিক্রিয়ায়ই ভেনেজুয়েলার পাল্টা নিষেধাজ্ঞা।

কে আগে নতি স্বীকার করবে

এখন প্রশ্ন—
এই অচলাবস্থা ভাঙবে কীভাবে?

বিমান সংস্থাগুলো কি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ সত্ত্বেও আগের মতো ভেনেজুয়েলায় উড়তে রাজি হবে?
নাকি ভেনেজুয়েলাই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সিদ্ধান্ত শিথিল করবে?

এ মুহূর্তে বিষয়টি দুই পক্ষের ক্ষমতার খেলায় দাঁড়িয়ে আছে। ভেনেজুয়েলা নিজেদের সার্বভৌমতা ও আকাশসীমার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, আর বিমান সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা ও নিজেদের নিরাপত্তা নীতিগত দায়বদ্ধতার মধ্যে আটকে আছে।

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় প্রভাব পড়তে পারে

যে বিষয়টা সবচেয়ে উদ্বেগের, তা হলো—
এই ঘটনাটি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে দক্ষিণ আমেরিকার আকাশপথে রুট ম্যানেজমেন্ট, জ্বালানি খরচ, যাত্রী প্রবাহ—সবকিছুতেই বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

ইউরোপ–দক্ষিণ আমেরিকা রুটে ফ্লাইট কমে গেলে যাত্রীদের জন্য টিকেট মূল্য বাড়বে, ট্রানজিট জটিলতা বাড়বে, আর ভেনেজুয়েলার আর্থিক ক্ষতি আরও গভীর হবে।

Read Previous

সংস্কার থেমে নেই, তবু দালালমুক্ত নয় পাসপোর্ট অফিস: দুই জেলার চিত্রে তীব্র বৈপরীত্য

Read Next

বাংলাদেশিদের জন্য আইসল্যান্ড ভ্রমণ ভিসা: ডকুমেন্টস, ফি, প্রক্রিয়া—সব তথ্য এক জায়গায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular