
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: থাইল্যান্ডের দক্ষিণের আন্দামান সাগরের বুকে অবস্থিত মায়া বে (Maya Bay) — একে অনেকেই ‘পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর সৈকত’ বলে মনে করেন। ‘দ্য বিচ’ সিনেমার কারণে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যাওয়া এই জায়গাটি প্রকৃতির সৌন্দর্য, নীল জলরাশি এবং চুনাপাথরের পাহাড় ঘেরা পরিবেশের জন্য পরিচিত।
নতুন করে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে
পরিবেশগত সংরক্ষণের জন্য ২০১৮ সালে মায়া বে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত পর্যটনের চাপে প্রবাল প্রাচীর ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছিল। চার বছর পর, ২০২২ সালে সীমিত পরিসরে আবার চালু করা হয় এবং ২০২৫ সালে নতুন পরিবেশবান্ধব নিয়মনীতি মেনে আরও বিস্তৃতভাবে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়মাবলী ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা
থাইল্যান্ডের জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩৭৫ জন পর্যটক নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মায়া বেতে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়াও, কোনো নৌকা সরাসরি উপকূলে ভিড়তে পারবে না। পর্যটকদের পাইলেহ বে-তে নেমে হেঁটে মায়া বেতে আসতে হবে। সাঁতার কাটা বা ডাইভিং এখনও নিষিদ্ধ, যাতে প্রবাল ও সামুদ্রিক প্রাণীদের ক্ষতি না হয়।
কি দেখবেন মায়া বেতে?
- বিস্তীর্ণ সাদা বালুর সৈকত
- পান্না সবুজ জলরাশি
- চুনাপাথরের প্রাকৃতিক প্রাচীর
- স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও বনভূমি
- প্রাকৃতিক শান্তির অপার অনুভূতি
কিভাবে যাবেন?
মায়া বেতে যেতে হলে প্রথমে যেতে হবে ফি ফি দ্বীপে (Phi Phi Islands)। এখান থেকে স্পিডবোটে করে মায়া বেতে যাওয়া যায়, তবে আপনাকে অবশ্যই পূর্ব-নির্ধারিত অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
পর্যটকদের জন্য পরামর্শ:
- পূর্বে বুকিং করে রাখুন
- নির্ধারিত সময় ও নিয়ম মেনে চলুন
- পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন থাকুন
- স্থানীয় গাইডের পরামর্শ মেনে চলুন
উপসংহার
মায়া বে শুধু একটি পর্যটন স্থান নয়, এটি প্রকৃতির এক অপার সৃষ্টি। পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই পর্যটনের দৃষ্টান্ত হিসেবে মায়া বে এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। যারা প্রকৃতি ভালোবাসেন ও নির্জনে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য মায়া বে হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।
-পর্যটন সংবাদ প্রতিনিধি



