
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: মহরমের ছুটিকে ঘিরে রাজধানীবাসীর মধ্যে এক ধরনের স্বস্তির আমেজ কাজ করে। এই ছোট ছুটির মধ্যেই অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে চান। ঢাকার আশেপাশেই রয়েছে এমন কিছু দর্শনীয় স্থান, যেখানে খুব সহজেই দিনব্যাপী ঘুরে আসা যায়, ইতিহাস, সংস্কৃতি আর প্রকৃতির মেলবন্ধনও পাওয়া যায়। চলুন দেখে নিই এমন কিছু স্থান—
লালবাগ কেল্লা – ইতিহাসের প্রাণস্পন্দন
পুরান ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ১৭শ শতাব্দীর এই মোগল স্থাপত্য যেন ঢাকার ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি। মহরমের ছুটিতে ইতিহাসপ্রেমী কিংবা ফটোগ্রাফির শৌখিনদের জন্য এটি হতে পারে চমৎকার গন্তব্য। ভেতরে রয়েছে পারিবারিক পিকনিকের উপযোগী সবুজ লন ও প্রাচীন স্থাপত্যের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য।
জাতীয় উদ্যান, মিরপুর – শহরের ভিতরেই সবুজের আবরণ
মিরপুরের জাতীয় উদ্যান (Botanical Garden) প্রাকৃতিক নিসর্গপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য স্থান। হাঁটার পথ, বিশাল গাছগাছালি, এবং নীরব পরিবেশ—সবকিছুই একদিনের ছুটিকে করে তুলতে পারে মানসিক প্রশান্তির উৎস।
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা – শিশুদের আনন্দের ঠিকানা
পরিবারের ছোট সদস্যদের নিয়ে কোথাও যাওয়ার চিন্তা থাকলে চিড়িয়াখানার বিকল্প নেই। মিরপুরে অবস্থিত এই জাতীয় চিড়িয়াখানায় রয়েছে হরেকরকম বন্যপ্রাণী ও পাখির সমাহার। মহরমের ছুটিতে শিশুদের জন্য একবেলার আনন্দ ভ্রমণ হতে পারে এটি।
হাতিরঝিল – আধুনিক ঢাকার এক জলাভূমি সৌন্দর্য
যারা শহরের ভেতরেই একটু আধুনিক সাজে সাজানো জায়গায় সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য আদর্শ গন্তব্য হতে পারে হাতিরঝিল। বিকেলের হালকা হাওয়া, নৌকা ভ্রমণ ও আলোকসজ্জার সাথে একটি কফির কাপ – স্বল্প সময়েই একরাশ প্রশান্তি এনে দিতে পারে।
বুড়িগঙ্গার নদীতীর – নৌকা ভ্রমণে ভিন্ন স্বাদ
মহরমের ছুটিতে একটু ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা ভ্রমণ হতে পারে দারুণ এক বিকল্প। সদরঘাটের আশেপাশে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর পাশ ঘেঁষে নৌকায় ভেসে বেড়ানোর আলাদা রোমাঞ্চ রয়েছে।
ঘোরার আগে কিছু পরামর্শ:
- অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে সকালের দিকে ঘোরার পরিকল্পনা করুন
- পানীয় জল ও হালকা খাবার সঙ্গে রাখুন
- যারা মুসলিম ধর্মাবলম্বী, তাঁদের জন্য মহরমের তাজিয়া মিছিল ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার কারণে কিছু রাস্তায় যানজট থাকতে পারে, সে বিষয়ে আগে থেকেই তথ্য নিয়ে নিন
এই মহরমে ছুটির দিনকে স্মরণীয় করে তুলুন কাছাকাছি কোথাও ঘুরে এসে। সময়, অর্থ এবং নিরাপত্তা—সব কিছু মাথায় রেখেই ঢাকা শহরেই আপনার পরবর্তী গন্তব্য খুঁজে নিতে পারেন।



