
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : পার্থ ও কুয়ালালামপুর—দুই শহরের আকাশপথে গত দশ বছরে যে সম্পর্কটা গড়ে উঠেছে, তার পেছনে বাটিক এয়ার মালয়েশিয়ার ভূমিকা স্পষ্ট। ঠিক এই উপলক্ষেই পার্থ বিমানবন্দরে আজ আয়োজন হলো এক উৎসবমুখর উদযাপনের। অস্ট্রেলিয়ায় তাদের পথচলার দশ বছর পূর্তি শুধু একটি সংখ্যাই নয়, বরং আঞ্চলিক যাত্রী চলাচল ও পর্যটন খাতে এক স্থায়ী প্রভাবের ফলাফল।
২০১৫ সালে পার্থে প্রথমবারের মতো কার্যক্রম শুরু করেছিল বাটিক এয়ার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা বেড়েছে, রুটে যাত্রীদের আগ্রহও বদলেছে। সেই হিসেবেই বর্তমানে কুয়ালালামপুর থেকে পার্থে সপ্তাহে সাতটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি বালির ডেনপাসারের মাধ্যমে আরও সাতটি ওয়ান-স্টপ পরিষেবা চলছে। অর্থাৎ মালয়েশিয়া–অস্ট্রেলিয়া রুটে যাতায়াত করা যাত্রীদের সামনে এখন আগের তুলনায় বেশি বিকল্প।
চাহিদা যে সত্যিই বাড়ছে, তার প্রমাণ মিলেছে বাটিক এয়ারের সাম্প্রতিক ঘোষণা থেকেই। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে এই রুটে আরও এগারোটি নতুন সরাসরি ফ্লাইট যোগ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এতে পার্থের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে, পাশাপাশি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পর্যটন খাতও বাড়তি সুবিধা পাবে।
পর্যটনের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সংশ্লিষ্টরা আগেই আস্থা দেখিয়েছিলেন। আর্থিক বছর FY25–এ শুধু এ রুট থেকেই পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পর্যটন অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে প্রায় ১৩১ মিলিয়ন ডলার। যাত্রী চলাচলের ধারাবাহিক বৃদ্ধি জানান দেয়, এই সংযোগ অঞ্চলের ভ্রমণ বাজারে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দশ বছর পূর্তির উদযাপনকে ঘিরে বাটিক এয়ার বিশেষ প্রোমোশনও চালু করেছে। যারা ২১ নভেম্বর ২০২৫–এর মধ্যে টিকিট বুক করবেন, তারা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় পাবেন। নির্ধারিত প্রোমো কোড FLYBATIKAIR ব্যবহার করে এই সুবিধা নেওয়া যাবে। ভ্রমণের সময়সীমা রাখা হয়েছে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত। ফলে যারা বছরের শুরুতে ছুটির পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি বেশ আকর্ষণীয় অফার।
পার্থ বিমানবন্দরের নির্বাহী জেমস গোর্টন বলেছেন, বাটিক এয়ারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব মালয়েশিয়াকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক পর্যটক বাজারে পরিণত করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ফ্লাইট যুক্ত হলে এই অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
অন্যদিকে বাটিক এয়ার মালয়েশিয়ার সিইও দাতুক চন্দ্রন রামা মুথি জানান, তারা আগামী দশকে শুধু ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো নয়, পুরো অপারেশনেই নতুনত্ব ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আনতে চান। তার ভাষায়, “যাত্রী অভিজ্ঞতা উন্নত করা এবং আঞ্চলিক সংযোগ বাড়ানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
বাটিক এয়ার মালয়েশিয়া লায়ন এয়ার গ্রুপের অংশ, এবং এই গ্রুপ ইতোমধ্যেই এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু গন্তব্যেও বাটিক এয়ারের সেবা যুক্ত হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক উপস্থিতিকে আরও দৃঢ় করছে।
যারা এখনই ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন বা প্রোমোশনাল অফারটি দেখতে চান, তারা বাটিক এয়ারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ঢুঁ মারতে পারেন: www.batikair.com
বাটিক এয়ারের এই দশ বছরের যাত্রা দেখিয়ে দিচ্ছে, সঠিক পরিকল্পনা, উপযুক্ত বাজার এবং ধারাবাহিক সেবা—এই তিনটি মিলেই একটি রুট শুধু বাণিজ্যিকভাবেই সফল হয় না, বরং দুই দেশের ভ্রমণ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিকেও আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। এই রুটের পরবর্তী দশক তাই আরও বিস্তৃত হতে যাচ্ছে—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে নতুন ফ্লাইট যোগ হওয়া এবং যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ।



