প্রকৃতির আদুরে কন্যা ‘ভাড়াউড়া লেক’

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা-বাগানের ভেতর শংকরটিলায় অবস্থান যেখানে রয়েছে জলপদ্মের মেলা। ভাড়াউড়া লেকের শাপলা-পদ্ম ফুলগুলোর দিকে তাকালে মনে হবে সবুজের মধ্যে লালের চাদর বিছানো রয়েছে। লেকটি চা বাগানের মাঝখানে অবস্থিত এবং এটি ঘিরে রয়েছে পাহাড়ি টিলা, সবুজ চা গাছ ও অরণ্য। শীতকালে এখানে অতিথি পাখির আগমন ঘটে এবং লেকের পানিতে জলপদ্মের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের দেখা মেলে।

শান্তি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই লেক প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক আদর্শ গন্তব্য। লেকের স্বচ্ছ পানিতে চা বাগানের প্রতিবিম্ব এবং চারপাশের সবুজ পরিবেশ মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। ফটোগ্রাফির জন্য এই জায়গা এক অনন্য স্থান।

লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
লেকের চারপাশে সবুজের সমারোহ, সারি সারি চা গাছ এবং টিলাগুলোর উপস্থিতি প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি তৈরি করেছে। লেকটির পানিতে শাপলা ফুলের উপস্থিতি সবুজ আর লালের অনন্য মিশ্রণ উপস্থাপন করে, যা যেকোনো দর্শনার্থীর মন জয় করে। শীতকালে লেকটি অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে এবং পাহাড়ি পথে চলার সময় বানর ও হনুমানের বিচরণও দেখা যায়।

লেকটির দক্ষিণ-পূর্ব পাশে রয়েছে পাঁচ তারকা মানের গ্র্যান্ড সুলতান হোটেল, পশ্চিম দিকে রয়েছে ভাড়াউড়া চা-বাগান, উত্তরে রেললাইন এবং পূর্ব দিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। পাহাড়ের গায়ে হেঁটে লেক পর্যন্ত পৌঁছানোর পথটি এতটাই সুন্দর যে এটি যেকোনো ভ্রমণপ্রেমীর জন্য একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

লেকের আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
ভাড়াউড়া চা বাগানের শংকরটিলার ঠিক নিচেই লেকটি অবস্থিত। শংকরটিলার নামকরণ হিন্দু দেবতা শিবের নামানুসারে করা হয়েছে এবং এখানে একটি শিবমন্দিরও বিদ্যমান। লেকের কাছেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান অবস্থিত, যা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এই জায়গাগুলোর মিলিত প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

ভ্রমণের সেরা সময়
শীতকাল ভাড়াউড়া লেক দর্শনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এই সময়ে লেকের চারপাশে অতিথি পাখি এবং শাপলা ফুলের সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করে। এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিনে স্থানীয় ও দূরবর্তী পর্যটকদের মিলনমেলা এখানে দেখা যায়।

ভাড়াউড়া লেক যাওয়ার উপায়
প্রথমে বাস বা ট্রেনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরে পৌঁছাতে হবে। শহরের চৌমুহনা পয়েন্ট থেকে কলেজ রোড ধরে অটোরিকশা বা সিএনজিতে ভাড়াউড়া চা বাগানে পৌঁছানো যায়। রিকশায় প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে এবং জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৩০ টাকা। চা বাগান থেকে প্রায় ৩০ মিনিটের পাহাড়ি পথ হেঁটে লেকের কাছে পৌঁছাতে হয়।

ভ্রমণকারীদের জন্য পরামর্শ
লেকের চারপাশে পাহাড়ি পথে হাঁটার সময় আরামদায়ক জুতা পরিধান করুন এবং বানর বা অন্যান্য বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত না করার জন্য সাবধানে চলুন। শীতকালে পর্যাপ্ত উষ্ণ পোশাক নিয়ে যাওয়াও জরুরি।

শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া লেক প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অসাধারণ গন্তব্য। চা বাগানের সবুজের মধ্যে অবস্থিত এই লেকটি শান্তি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। শহরের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এই লেক ভ্রমণ একটি দারুণ অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

Read Previous

বাটিক এয়ার মালয়েশিয়ার এক দশকের পার্থ যাত্রা – নতুন ফ্লাইট, বড় পরিকল্পনা, আরও বিস্তৃত সংযোগ

Read Next

আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রের সব সম্ভাবনা থাকার পরেও অবহেলিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular