
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বর্ষার সৌন্দর্যে মোড়া লোভাছড়ার ভ্রমণ যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব কাব্য! সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পুববাজার খেয়াঘাট থেকে ‘ছাতকী নৌকা’তে চড়ে সীমান্তবর্তী লোভাছড়ার উদ্দেশ্যে এক দল ভ্রমণপিপাসুর যাত্রা রূপ নেয় এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতায়।
দেড় হাজার টাকায় ভাড়া করা ছইবিহীন ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বেলা পৌনে দুইটার দিকে যাত্রা শুরু হয়। পেছনে পড়ে থাকে কানাইঘাট সদরের কোলাহল, সামনে অপেক্ষায় থাকে পাহাড়, নদী আর বৃষ্টির অপার এক মায়া। ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ভেসে ওঠা নদীতীর, পচে যাওয়া গাছের পাতা, সাদা-ধূসর বাকলের গাছ আর পাখির খুনসুটি মিলিয়ে তৈরি হয় এক দুর্লভ প্রাকৃতিক দৃশ্য।
নদীপথে যাত্রা করতে করতে চোখে পড়ে সুরমার ওপারে ঘাস খাওয়া গরু, মাছ ধরা জেলে, চড়ুই-শালিকের খেলা আর বৈদ্যুতিক তারে বসে থাকা অসংখ্য দাঁড়কাক। এমন দৃশ্য যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীকেই মোহিত করবে।
লোভা নদীর উৎস মুখে এসে বিস্ময়ে অভিভূত হন পর্যটকরা। সুরমা, লোভা ও দেওছই খালের মিলনস্থল এই ত্রিমোহনা যেন জল-জঙ্গলের এক জীবন্ত চিত্রকর্ম। এখান থেকে স্পষ্ট দেখা যায় মেঘালয়ের সবুজ-শ্যামল পাহাড়। সারি সারি টিলায় রৌদ্রের ঝলক, পাহাড়ের পাদদেশে লোভাছড়ার স্বচ্ছ পানি, আর খোলা আকাশ মিলে তৈরি করে এক অদ্ভুত সৌন্দর্য।

চিন্তারবাজার ও ঐতিহ্যবাহী বাগিচাবাজার পেরিয়ে পৌঁছানো হয় মুলাগুল বাজারের কাছে, যেখানে সাউদগ্রাম ও বড়গ্রামের বিপরীতে অবস্থিত ভারতের মেঘালয়। এখানেই নদীর বুকে নৌকায় বসে হঠাৎ বৃষ্টি নামে। রিমঝিম থেকে শুরু হয়ে একসময় মুষলধারে রূপ নেয় বৃষ্টি। পাহাড়, জল, বৃষ্টি আর সবুজে মিশে যায় এক অপার্থিব অনুভূতিতে।

তবে রোমান্টিক সেই মুহূর্তে প্রকৃতি তার রুদ্র রূপও দেখায়। নদী উত্তাল হয়ে ওঠে, তিনজনের জন্য একটি ছাতা যথেষ্ট না হওয়ায় বৃষ্টিতে কাকভেজা অবস্থায় আশ্রয়ের খোঁজে নৌকা ভেড়ে মুলাগুল বাজারে।
এই ভ্রমণ কাহিনি কেবল একটি দিনের গল্প নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, আবেগ ও ভালবাসার এক অসাধারণ প্রতিচ্ছবি। লোভাছড়া যেন নিজেই একজন শিল্পী—যে প্রতিটি দর্শককে তার রঙ-তুলির ছোঁয়ায় আঁকা দৃশ্যপটে আমন্ত্রণ জানায়।
– পর্যটন সংবাদ
[পর্যটকদের জন্য পরামর্শ: বর্ষাকালে লোভাছড়া ভ্রমণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যাত্রা করুন। নদী উত্তাল থাকায় জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম ব্যবহার আবশ্যক।]



