কুশিয়ারচর ভ্রমণ: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়া পদ্মার চর আর খেজুরবাগানের গল্প

ছবি: সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: গন্তব্য মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার মনোমুগ্ধকর কুশিয়ারচর। দে-ছুট ভ্রমণ সংঘের একঝাঁক অভিযাত্রী গতানুগতিক পথ এড়িয়ে বেছে নিয়েছেন সাভারের নামাবাজার ব্রিজ পেরিয়ে ফোর্ডনগর, আড়ালিয়া ও খড়ারচরের মনোরম সড়কপথ। যদিও এতে অতিরিক্ত ১৩ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালাতে হয়েছে, তবে পথের সৌন্দর্য সে কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে।

আঁকাবাঁকা সরু পিচঢালা পথে ছুটতে ছুটতে দুই পাশে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, কাঁচা-পাকা ধানের ম-ম ঘ্রাণ, আর কখনো কখনো ১৪-১৫ ফুট উঁচু সড়কের নিচে সবুজের রাজত্ব মন ছুঁয়ে যায়। সন্ধ্যার অন্ধকারে সতর্কভাবে এগিয়ে গিয়ে সিঙ্গাইর বাজারে বিরতি, সেখানে চিতই পিঠা আর হাঁসের ডিমের স্বাদ ছিল অতুলনীয়।

পথে পথে থেমে মালাই চা, মিষ্টি পান, আবার কখনো ঝিটকার খেজুর মিঠাই মুখে পুরে এগিয়ে যাওয়া। অবশেষে রাতের আঁধারে পৌঁছে যাওয়া কুশিয়ারচরে। রাত কাটে ভ্রমণসঙ্গীর আত্মীয়ের বাড়িতে। সকালে গ্রামের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পদ্মার পাড়ে তাঁবু টানিয়ে বসা, খেজুরগাছের ছায়ায় আয়েশি সময় কাটানো আর মাটির চুলার পিঠা-মুড়ির আয়োজন যেন ভ্রমণ আনন্দকে শতগুণে বাড়িয়ে দেয়।

গ্রামজুড়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ খেজুরবাগান, সবজির খেত আর প্রাণচঞ্চল কৃষিজীবন। খেজুরগাছের আধিক্য দেখে মনে হয়, যেন হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরে আসছে। প্রতিটি বাড়িতে হাঁস-মুরগি, গরু-বকরি আর পুকুরে মাছ চাষ—এই গ্রামীণ জীবনযাত্রা সত্যিই মুগ্ধ করে।

এখান থেকে নৌকায় করে পাড়ি জমানো হয় সদ্য জেগে ওঠা এক চরপানে। পদ্মার বুকে জনমানবহীন সেই চর যেন এক স্বর্গীয় দ্বীপ—চারদিকে থইথই পানি, মাঝে ছোট্ট একটি ভূখণ্ড, যার মাঝখানে স্বচ্ছ পানির এক প্রাকৃতিক লেক। ভ্রমণকারীরা সেই পানিতে স্নান করতেও ভুল করেননি।

এই ভ্রমণে কেবল কুশিয়ারচরের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য নয়, বরং চর জয়ের আনন্দ, খেজুরগাছের ছায়া, পিঠাপুলি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব সমন্বয় খুঁজে পেয়েছেন ভ্রমণকারীরা।

কীভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জগামী বাস/কার/মোটরবাইকে সহজেই পৌঁছানো যাবে। বাইক হলে নিজের মতো পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ বেশি।

থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা:
পরিচিত কেউ থাকলে সুবিধা। অন্যথায় পদ্মার পাড়ে তাঁবু টানিয়ে থাকা ও নিজের রান্নায় খাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আরও যা দেখা যাবে:
হরিরামপুরের আরেক চর ‘লেছড়াগঞ্জ’—যেখানে দুর্লভ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। কুশিয়ারচর থেকে ফেরার পথে বিখ্যাত খেজুর গুড় উৎপাদনের গ্রাম ঝিটকায়ও ঘুরে আসা যেতে পারে।

সতর্কতা:
এলাকার সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। স্থানীয়দের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ বজায় রাখলে ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও মধুর হবে।

প্রতিবেদন: পর্যটন সংবাদ প্রতিবেদক

Read Previous

বর্ষার লোভাছড়া ভ্রমণ: পাহাড়, বৃষ্টি আর নদীর প্রেমে ভেসে যাওয়া এক দিন

Read Next

জাহাঙ্গীরনগরে ধানের চারা রোপণ: সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রের বেহাল দশায় অভিনব প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular