
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক:দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চালু হলেও মাত্র দেড় বছরের মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে গেল ঢাকা-জাপান (নারিতা) রুটের সরাসরি ফ্লাইট। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লোকসানের অজুহাতে আজ ১ জুলাই থেকে এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে।
বিমান সূত্র জানায়, প্রতিটি ফ্লাইটে গড়ে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছিল। ফলে পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেয় আপাতত এই ফ্লাইট বন্ধ রাখা হবে। তবে এ সিদ্ধান্তে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি, পর্যটক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা।
জাপানে বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন, যাদের অনেকেই ব্যবসা, চাকরি কিংবা শিক্ষার জন্য নিয়মিত যাতায়াত করতেন ঢাকা-নারিতা রুটে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দিয়ে ফ্লাইটটি চালু করা হয়। এতে যাত্রীরা মাত্র ৬–৮ ঘণ্টায় বাংলাদেশে পৌঁছানোর সুযোগ পেতেন, যা পূর্বে ছিল ট্রানজিটসহ ২০ ঘণ্টারও বেশি।
পর্যটন ও প্রবাসীদের অনেকে মনে করছেন, সরকারের সদিচ্ছা ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ফ্লাইটটি লোকসান নয়, লাভজনক করাও সম্ভব ছিল। বিশেষ করে যখন সরকারের পক্ষ থেকে আগামী পাঁচ বছরে জাপানে এক লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের ঘোষণা এসেছে, তখন এ রুট বন্ধ করা আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ।
পর্যটন বিশ্লেষকরা বলছেন, জাপান-বাংলাদেশের মধ্যকার পর্যটন, শিক্ষা, বাণিজ্য এবং প্রবাস জীবনকে গতিশীল করতে এই রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। ঢাকা থেকে শাকসবজি, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য জাপানে দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ থাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও উপকৃত হচ্ছিলেন।
বিমানের সাবেক পর্ষদ সদস্য ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদ বলেন, “নারিতা রুট বন্ধ করা এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিশ্বের অনেক এয়ারলাইন্সই সম্মানজনক রুটগুলো ক্ষতি দিয়ে হলেও চালু রাখে।”
এদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক জাপান সফরের সময় প্রবাসীরা প্রত্যাশা করেছিলেন ফ্লাইট চালু রাখার ঘোষণা আসবে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো আশ্বাস দেননি, যা হতাশ করেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের।
টোকিও প্রবাসী আনোয়ার তালুকদার বলেন, “আমরা যখন ভাবি উন্নয়নমুখী সরকার আমাদের কথা ভাববে, তখন দেখি একেবারে উল্টোটা হচ্ছে। ১৭ বছর পর ফ্লাইট চালু হয়েছিল, এখন আবার বন্ধ। এটা আমাদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন।”
পর্যটন, প্রবাস এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে ঢাকা-নারিতা রুট একটি সম্ভাবনাময় করিডোর ছিল। এখন প্রশ্ন থেকে যায়—শুধু আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এমন একটি সম্ভাবনাময় রুটকে বন্ধ রাখা কতটা যুক্তিসঙ্গত?



