
নিজস্ব প্রতিবেদক, পর্যটন সংবাদ: বাংলাদেশের পর্যটন খাত এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন, সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যে ভরপুর এই দেশটি পর্যটকদের জন্য একটি অনন্য গন্তব্য হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটন খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি প্রধান উৎসে পরিণত করা সম্ভব।
বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (UNWTO) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর সারা বিশ্বে প্রায় ১৫০ কোটির বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেন এবং এই খাত থেকে বৈশ্বিক আয়ের পরিমাণ প্রায় ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার। অথচ বাংলাদেশের পর্যটন খাত এখনো সে পরিপ্রেক্ষিতে তুলনামূলকভাবে অনুন্নত ও অবহেলিত রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩.২ লাখ, যা প্রতিবেশী দেশ ভারতের তুলনায় অত্যন্ত কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবন, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম, মহাস্থানগড়, ময়নামতি, পাহাড়পুর, ষাট গম্বুজ মসজিদসহ আরও বহু আকর্ষণীয় গন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে পারলে এ সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব।
পর্যটন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রাশেদুল হক বলেন, “পর্যটন খাত শুধু চাকরি সৃষ্টি বা বিনোদনের খাত নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করতে পারে। সঠিক পরিকল্পনায় প্রতি বছর কয়েকশ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।”
সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গত কয়েক বছরে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন, অন-অ্যারাইভাল ভিসা সহজীকরণ, আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা আয়োজন, নতুন ট্যুরিস্ট রুট চালু এবং পর্যটন সেবা খাতে বিনিয়োগে প্রণোদনা প্রদান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর পাশাপাশি প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হোটেল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত গাইড ও পরিবহন ব্যবস্থা।
পর্যটনে বৈশ্বিক নজর কাড়তে করণীয়:
- আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিপণন ও ব্র্যান্ডিং
- ট্যুর অপারেটরদের প্রশিক্ষণ ও মানোন্নয়ন
- ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও সহজীকরণ
- পরিবেশবান্ধব ট্যুরিজম নিশ্চিত করা
- স্থানীয় জনগণকে পর্যটনসেবায় অন্তর্ভুক্ত করা
সরকারি সূত্র মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পর্যটন খাত থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক আয় অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন একটি দ্বার উন্মোচিত হবে, যা কর্মসংস্থান, সংস্কৃতির প্রসার এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়, UNWTO



