
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে ফের শুরু হয়েছে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা। নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে নির্ধারিত হতে পারে বলে নির্বাচনী মহলে আলোচনা থাকলেও এখনো চূড়ান্ত কোনো দিনক্ষণ জানায়নি নির্বাচন কমিশন। তার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানগত পার্থক্য এবং পরস্পর বিরোধী বক্তব্য রাজনীতির মাঠে তৈরি করছে বিভ্রান্তি।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপির দাবি, নির্বাচন প্রশ্নে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ‘সংস্কার’ ও ‘বিচার’ ইস্যুকে অজুহাত বানিয়ে বিলম্বিত করার চেষ্টা চলছে। দলটির অভিযোগ, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা না দিয়ে রাজনীতিকে অচল করে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি ইসলামী দল বলছে—সংস্কার ও উপযুক্ত পরিবেশ ছাড়া নির্বাচন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তবে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংশ্লিষ্ট অভিযোগ উঠায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে উত্তেজনা। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে বিএনপির সাম্প্রতিক লন্ডন বৈঠকে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে একটি যৌথ ঘোষণা এলেও তা মেনে নেয়নি জামায়াত ও এনসিপি। তাদের দাবি, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন ছাড়া কোনো নির্বাচন মানা হবে না।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংখ্যানুপাতিক (PR) পদ্ধতি চালুর দাবি জানালেও বিএনপি এই পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করছে। বিএনপি মনে করছে, এই পদ্ধতি দেশে বিভাজনমূলক সমাজ ও দুর্বল সরকার তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বলছে, বর্তমান বাস্তবতায় পিআর পদ্ধতিই হতে পারে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান।
নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজন নিয়েও বিভ্রান্তি চলছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের মূল ফোকাস জাতীয় নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি নেওয়া। স্থানীয় নির্বাচন এই সময়সীমায় আয়োজন সম্ভব নয় বলেই জানানো হয়েছে।
নির্বাচনকালীন এই অনিশ্চয়তা প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “নির্বাচনের যৌক্তিক সময় নির্ধারণ নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। এটা জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করার অপচেষ্টা।” অন্যদিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য থাকায় নির্বাচন প্রশ্নে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তবে আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধান সম্ভব।”
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, “আগামী নির্বাচন আয়োজনের আগে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, নতুন সংবিধান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারসহ জনগণের প্রকৃত দাবিগুলো বাস্তবায়ন অপরিহার্য।”
বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত ৫০টি দলের মধ্যে ১৮টি দল পিআর পদ্ধতির পক্ষে, ২৮টি দল এর বিপক্ষে এবং বাকি ৪টি দল এখনো তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি। এই পদ্ধতিকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে বিভাজন। ইসলামী দলগুলোর দাবি, বিএনপি শুধু নির্বাচনী রাজনীতিতে সুবিধা নিতে পিআর বিরোধিতা করছে। এ অবস্থান থেকে দ্রুত সরে আসা না গেলে রাজনৈতিক ঐক্য আরও দুর্বল হবে বলে তারা মনে করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পূর্বে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একক ও সমন্বিত অবস্থান জরুরি। নতুবা নির্বাচনকেন্দ্রিক দ্বিধা, বিভ্রান্তি ও সংঘাত বেড়েই চলবে—যার চরম মাশুল দিতে হতে পারে দেশের গণতন্ত্রকে।
-পর্যটন সংবাদ বিশেষ প্রতিনিধি



