
ছবি: সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ। নিজস্ব প্রতিবেদক : পুরান ঢাকার ইতিহাসঘেরা এলাকা হোসেনি দালান আজ ভোর থেকেই ভরে উঠেছিল শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিতে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করেছে। কালো পাঞ্জাবি পরিহিত, খালি পায়ে, মাথায় কালো পতাকা বেঁধে শোকাবহ মাতম আর “হায় হোসেন হায় হোসেন” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সকাল ১০টায় হোসেনি দালান থেকে শুরু হয় মিছিলটি, যা বকশীবাজার, উর্দু রোড, লালবাগ, আজিমপুর, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট ও সায়েন্স ল্যাব হয়ে ধানমন্ডিতে গিয়ে শেষ হয়। এই পথটিতে দাঁড়িয়ে অনেক পর্যটক ও আগ্রহী দর্শনার্থীদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই শোকযাত্রার দৃশ্য।

হোসেনি দালান ইমামবাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মীর জুলফিকার আলী বলেন, “এই মিছিল কয়েক শ বছর ধরে চলে আসছে। এর মধ্য দিয়ে মানুষ কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণ করে এবং শিক্ষা নেয়।”
মিছিলে অংশগ্রহণকারী ইমন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগ আমাদের জন্য ন্যায়ের প্রতীক। এদিন শোক প্রকাশ করতে আমরা সবাই একত্র হই।”
মিছিলে দেখা গেছে নিশান, আলম, দুলদুল ঘোড়া—যা কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তরুণরা কালো পোশাকে শোক প্রকাশ করে অংশ নেন এই মিছিলে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগে থেকেই নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং মিছিল চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সজাগ উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
পবিত্র আশুরা, হিজরি বর্ষের ১০ মহররম, মুসলিম বিশ্বের কাছে এক ঐতিহাসিক ও শোকাবহ দিন। এ দিনে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর পরিবারের নির্মম শাহাদত ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
এই মিছিল কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি পুরান ঢাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ঐতিহাসিক স্মৃতির ধারকও। প্রতিবছর এটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।



