১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন সংসদের যাত্রা শুরু: প্রথম ধাপে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। প্রথম ধাপে সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নেন, যার মাধ্যমে নতুন সংসদের কার্যকর যাত্রা দৃশ্যমান রূপ পেল। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ এ আয়োজনে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের শপথের পর পর্যায়ক্রমে অন্য দলগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ নেবেন। সে ধারাবাহিকতায় জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই ধাপভিত্তিক শপথ প্রক্রিয়াকে নতুন সংসদের শৃঙ্খলাবদ্ধ সূচনার অংশ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ফলাফল অনুযায়ী, নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি এককভাবে ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়। পাশাপাশি বিএনপির শরিক দলগুলো পেয়েছে আরও ৩টি আসন, যা নতুন সংসদে তাদের শক্ত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।

অন্যদিকে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়ে সংসদে একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিকরাও সম্মিলিতভাবে ভালো ফল করেছে। এই জোটের অন্য শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন। এর মধ্যে এনসিপি ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে জয় লাভ করেছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনের ফলাফল সংসদের ভেতরে একটি বহুমাত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। একদিকে বিএনপির বড় জয় সংসদে তাদের প্রভাবশালী ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি সংসদীয় বিতর্ক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সেই সমীকরণ এখন আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।

নতুন সংসদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলোতে সংসদের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছে জনগণ। শপথের মধ্য দিয়ে যে দায়িত্ব গ্রহণ শুরু হলো, তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে আসন্ন অধিবেশন ও আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায়। এখন নজর থাকবে—এই নতুন সংসদ কতটা কার্যকরভাবে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারে।

Read Previous

কানাডা ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্য চীনে ভিসামুক্ত ভ্রমণ কার্যকর আজ থেকে

Read Next

সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির অনুপস্থিতি, শপথ নিয়ে দোদুল্যমান ১১ দলীয় জোট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular