
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : চীন ভ্রমণে আগ্রহী কানাডা ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুখবর দিয়েছে বেইজিং। আজ থেকে এই দুই দেশের সাধারণ পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই চীন সফর করতে পারবেন বলে নিশ্চিত করেছে চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, নতুন এই ভিসামুক্ত নীতি চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ব্যবসা, পর্যটন, আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ—এই চারটি উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত চীনে অবস্থান করা যাবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহজ করা, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সফর বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নীতিটি কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে চীনের পর্যটন ও ব্যবসা খাতে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোভিড-পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক পর্যটন পুনরুদ্ধারের প্রেক্ষাপটে চীনের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার বড় ভূমিকা রয়েছে। জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসে তিন দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। সে সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চীন সফর করেন। সফরের মূল লক্ষ্য ছিল পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জনগণের চলাচল সহজ করার পথ খোঁজা।
বেইজিং সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিকের পাশাপাশি ভিসানীতির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে সাধারণ নাগরিকদের ভ্রমণ সহজ করা এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের যাতায়াত বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলো।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই উদ্যোগ শুধু পর্যটনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বৃহত্তর কৌশলগত ভাবনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ায় চীন, কানাডা ও যুক্তরাজ্য নতুন করে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে আগ্রহী হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানের পরিবর্তন ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার চেষ্টা হিসেবে এই পদক্ষেপকে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।
পর্যটন খাতের দৃষ্টিকোণ থেকেও সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ। চীনের ঐতিহাসিক নগরী, আধুনিক মেগাসিটি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা পর্যটকদের আকর্ষণ করে আসছে। ভিসা ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় কানাডা ও যুক্তরাজ্য থেকে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে হোটেল, পরিবহন, রেস্টুরেন্ট ও স্থানীয় ব্যবসাগুলো উপকৃত হবে।
ব্যবসায়িক মহলও এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার থাকায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে চীন সফর করতে পারবেন। এতে নতুন বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ এবং বাণিজ্যিক আলোচনা আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, আজ থেকে কার্যকর হওয়া এই ভিসামুক্ত নীতি চীনের কূটনীতি, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। কানাডা ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্য এটি যেমন ভ্রমণ সহজ করবে, তেমনি তিন দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করার একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।



