
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: গত পয়লা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর আকাশ যেন রঙে রঙিন হয়ে উঠেছিল। শত শত ড্রোনের আলোয় উদ্ভাসিত সেই সন্ধ্যায় দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন এক মনোমুগ্ধকর ড্রোন শো, যা ঢাকার পর্যটন ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হয় আকাশে ড্রোন চিত্রের মাধ্যমে, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য ছিল এক চমৎকার অভিজ্ঞতা।
চীনের সহায়তায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই শো পরিচালনা করে ‘সিপিএ থিয়েটার্স ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি’। পুরো আয়োজনে ব্যবহৃত হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং বিশেষভাবে প্রোগ্রাম করা শত শত ড্রোন। শুধু বিনোদনের জন্য নয়, এ ছিল এক সচেতন বার্তা, যেখানে ফুটে ওঠে ১৯৭১ সালের শহীদ আবু সাঈদের প্রতীকী দৃশ্য, ‘২৪-এর বীর’ থিম, পায়রার খাঁচা ভাঙার বার্তা, ফিলিস্তিনের জন্য প্রার্থনা এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা।
জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকাজুড়ে ছিল দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়। সেদিন ঢাকাবাসী ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা প্রত্যক্ষ করেন এক অনন্য শিল্পনির্ভর সাংস্কৃতিক আয়োজন, যা দেশীয় উৎসব পর্যটনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
আয়োজনটি ছিল সম্পূর্ণ অনুদাননির্ভর। বাংলাদেশ সরকার চীন সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের মাধ্যমে ৫ লাখ ডলার ব্যয়ে এই শো আয়োজন করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি এই অর্থের ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) মওকুফ করে, কারণ এতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য বা মুনাফার কোনো বিষয় ছিল না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন প্রযুক্তিনির্ভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুধু অভ্যন্তরীণ পর্যটন নয়, বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহও বাড়াবে। ঢাকায় এমন উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে রাতের শহরকে ঘিরে ভিন্নধর্মী পর্যটন আকর্ষণ গড়ে তোলা সম্ভব।



