২০/০৪/২০২৬
৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও সহায়তা প্রত্যাশীদের ওপর হামলায় নিহত ৮৩: জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় নতুন করে আরও অন্তত ৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৮ শিশু এবং বহু বৃদ্ধ ও নারী। একইসঙ্গে অনাহার ও অপুষ্টিতে আরও মানুষের মৃত্যু ঘটছে প্রতিদিনই— যা চরম মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে আসে, শুধু মঙ্গলবারই ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ৫৮ জন সহায়তা প্রত্যাশী প্রাণ হারান। এরা সবাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থনে পরিচালিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ)-এর খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন।

গাজার দেইর আল-বালাহ অঞ্চল থেকে প্রতিবেদক হিন্দ খুদারি জানিয়েছেন, সহায়তার আশায় প্রতিদিনই মানুষ জিএইচএফ-এর কেন্দ্রে ভিড় করছেন, আর সেই সময়েই ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালাচ্ছে। গুরুতর আহতদের অনেকেই গাজার আল-শিফা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অনেকের মাথা, গলা ও বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে— যা চিকিৎসকদের জন্য চরম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জিএইচএফ-এর ব্যর্থতা এবং এর আশপাশে নিরাপত্তাহীনতার তীব্র সমালোচনা করেছে। জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা নিতে গিয়ে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৫৬০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি।

এদিকে, খাদ্য সংকট ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে গাজা জুড়ে। দুর্ভিক্ষে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহার ও অপুষ্টিতে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। এ নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৮ জনে, যার অর্ধেকের বেশি শিশু।

৭৫ বছর বয়সী গাজার বাসিন্দা সালিম আসফুর জানিয়েছেন, “আমি কয়েক মাস ধরে শুধু রুটি আর পানি খেয়ে বেঁচে আছি। আমার ওজন অর্ধেকে নেমে এসেছে। হাঁটতেও পারি না, ছেলের সাহায্য ছাড়া বাথরুমেও যেতে পারি না।”

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, যেখানে দৈনিক অন্তত ৬০০টি সহায়তাবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করা প্রয়োজন, সেখানে সোমবার প্রবেশ করেছে মাত্র ৯৫টি ট্রাক। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন প্রবেশ করছে মাত্র ৮৫টি ট্রাক— যা প্রয়োজনের অনেক নিচে।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস সতর্ক করে জানিয়েছে, সহায়তার বড় একটি অংশ “ইসরায়েলি বাহিনীর সৃষ্ট নিরাপত্তা বিশৃঙ্খলার” সুযোগে লুট হয়ে যাচ্ছে। তারা এটিকে পরিকল্পিত দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির অংশ বলেই মনে করছে।

গাজার ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাওয়ায় অবিলম্বে কার্যকর সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা।

Read Previous

 না ফেরার দেশে পোর্তোর কিংবদন্তি অধিনায়ক জর্জ কস্তা

Read Next

শিক্ষার্থীদের জন্য ফিরছে স্বস্তির দিন: মাইলস্টোন কলেজে ধাপে ধাপে শুরু ক্লাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular