
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: খাগড়াছড়ির সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সংকটে পড়েছে পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সাজেক ভ্যালিতে, যেখানে চলতি পূজার ছুটিতে শতাধিক রিসোর্ট আগে থেকেই বুকড থাকলেও এখন সব বুকিং বাতিল হচ্ছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আন্দোলনকারীদের ‘পর্যটন সাময়িক বন্ধের’ ঘোষণা ও জেলা প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারার কারণে সাজেকগামী সড়ক কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শুক্রবার রাত থেকে দুই হাজারের বেশি পর্যটককে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়।
সাজেকে পর্যটন সংকট
সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামাটি জেলার উত্তর প্রান্তে, ভারতের মিজোরাম সীমান্ত সংলগ্ন একটি পাহাড়ি জনপদ। রুইলুইপাড়া (১৭২০ ফুট) ও কংলাক পাড়া (১৮০০ ফুট) মিলিয়ে গড়ে উঠেছে এই জনপ্রিয় ভ্যালি, যেখানে মূলত লুসাই, পাংখোয়া ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস।
সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স এসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এখানে বর্তমানে ৮৫টি রিসোর্ট রয়েছে, যেখানে পূজার ছুটির জন্য মোট ২৬০০–৩০০০ বুকিং হয়েছিল। সবগুলোই বাতিল হয়ে যাওয়ায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সহ-প্রচার সম্পাদক মাইনুজ্জামান সরকার বলেন, “সব রিসোর্ট ফুল বুকড ছিলো। কিন্তু যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পর্যটক টাকা ফেরত চাইছেন। সাজেকে ব্যবসা একেবারেই থমকে গেছে।”
হোটেল খালি, বুকিং বাতিল
খাগড়াছড়ি সদরের সুপরিচিত হোটেল গাইরিং-এর ব্যবস্থাপক প্রান্ত বিকাশ ত্রিপুরা জানান, “চলতি সপ্তাহের সব বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। হোটেল এখন পুরোপুরি খালি।”
শুধু সাজেক নয়, খাগড়াছড়ি শহরের অন্তত ২০টির বেশি হোটেল একই অবস্থার মুখোমুখি।
বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে ভিড়
অন্যদিকে বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্র খোলা থাকায় সেখানে পর্যটকরা ভিড় করতে শুরু করেছেন। তবে সাজেকের মতো বড় পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে অস্থিরতা নেমে এসেছে।
প্রশাসনের প্রত্যাশা
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জানান, প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। কারণ, পর্যটকদের আস্থা ফেরানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



