১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটা সৈকতে হোটেলের বর্জ্য সমুদ্রে ফেলার অভিযোগ, উদ্বেগ বাড়ছে পর্যটক-স্থানীয়দের

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, সমুদ্রের পাশেই অবস্থিত হোটেল সি-ভিউ নিয়মিতভাবে পাইপের মাধ্যমে মলমূত্র ও বর্জ্য সমুদ্রে ফেলছে। এতে শুধু দুর্গন্ধই ছড়াচ্ছে না, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সমুদ্রের প্রাকৃতিক পরিবেশও।

গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, হোটেলের পেছন দিক দিয়ে পাইপের মাধ্যমে ময়লা পানিসহ বর্জ্য সরাসরি সমুদ্রে ফেলা হচ্ছে। ফলে আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও সমুদ্রস্নানে আসা পর্যটকরা।

এক পর্যটক সাব্বির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে বর্জ্য ফেলতে থাকলে সমুদ্রে নামার আগ্রহ কমে যাবে। কুয়াকাটা আসার মানেই নষ্ট হয়ে যাবে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারাও দাবি করেছেন, প্রায় প্রতিদিনই রাতের আঁধারে হোটেল থেকে এভাবে বর্জ্য ফেলা হয়।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু সতর্ক করে বলেন, “সমুদ্রে বর্জ্য ফেললে রোগবালাই ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়বে। তাই দ্রুত হোটেল কর্তৃপক্ষকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হোটেল সি-ভিউয়ের ম্যানেজার সলেমান জানান, তারা শুধু ময়লা পানি বালুর ওপর ফেলেন, মলমূত্র নয়। তবে মলমূত্র কোথায় ফেলা হয় সে বিষয়ে তিনি সঠিকভাবে কিছু বলতে পারেননি।

এ বিষয়ে হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, “ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যা হচ্ছে, তবে সমুদ্রে বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।”

কলাপাড়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসিন সাদেক জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হোটেলটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পর্যটক ও স্থানীয়দের আশঙ্কা, যথাসময়ে ব্যবস্থা না নিলে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Read Previous

নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি

Read Next

জাবি জাকসু নির্বাচন কমিশন থেকে অধ্যাপক মফিজুর সাত্তারের পদত্যাগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular