
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক | স্বাস্থ্য: কিডনি ক্যানসার এক ধরনের নীরব ঘাতক। এটি এমন একটি রোগ যা প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় উপসর্গহীন থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে তখন, যখন রোগটি অনেকটাই ছড়িয়ে পড়ে। কিডনি ক্যানসার সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ।
কিডনি ক্যানসার কী?
আমাদের শরীর গঠিত অসংখ্য কোষ বা সেল দিয়ে। প্রতিটি কোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে ডিএনএ, যা নির্দিষ্ট নির্দেশনায় চলে। কিন্তু যখন এই নির্দেশনায় গোলযোগ ঘটে এবং অস্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত কোষ তৈরি হতে থাকে, তখনই সৃষ্টি হয় টিউমার বা ক্যানসার। কিডনিতেও একইভাবে এই ক্যানসার সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে বলে মেটাস্টেসিস।
কিডনি ক্যানসারের কারণ
যদিও কিডনি ক্যানসার হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি, তবে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান চিহ্নিত করা হয়েছে:
- বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বৃদ্ধি
- ধূমপান
- অতিরিক্ত ওজন
- উচ্চ রক্তচাপ
- পারিবারিকভাবে ক্যানসারের ইতিহাস
- কিছু বংশগত রোগ যেমন ডুব সিন্ড্রোম, টিউবারাস স্ক্লেরোসিস, উইলমস টিউমার ইত্যাদি
বাংলাদেশে এই রোগের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই, তবে সবচেয়ে বেশি যে ধরনের কিডনি ক্যানসার দেখা যায় তা হলো রেনাল সেল কার্সিনোমা, যা ৪০ বছরের পর পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। শিশুদের মধ্যে উইলমস টিউমার তুলনামূলক বেশি।
লক্ষণ
কিডনি ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন:
- প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া
- প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হওয়া
- ক্ষুধামান্দ্য
- কিডনির পেছনে ব্যথা
- দুর্বলতা, ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪০ বছরের বেশি বয়সী কেউ প্রস্রাবে রক্ত দেখলে সঙ্গে সঙ্গে কিডনির বিভিন্ন পরীক্ষা করানো উচিত।
রোগ নির্ণয়
কিডনি ক্যানসার নির্ণয়ের জন্য যেসব পরীক্ষা করা হয়:
- ইউরিন টেস্ট
- কিডনি ও মূত্রথলির আল্ট্রাসোনোগ্রাম
- সিটি স্ক্যান, এমআরআই
- বুকের এক্স-রে
চিকিৎসা
রোগের অবস্থার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত অস্ত্রোপচার এবং ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।
- অস্ত্রোপচার: যদি ক্যানসার কেবল কিডনির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে টিউমারটি অপসারণ করা হয়। তবে ছড়িয়ে পড়লে সম্পূর্ণ কিডনিও ফেলে দিতে হয়।
- ওষুধ: Pembrolizumab, Nivolumab, Ipilimumab ইত্যাদি ইমিউনোথেরাপির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- টার্গেটেড থেরাপি: VEGF ইনহিবিটর প্রয়োগ করে রক্তনালিতে ছড়ানো ক্যানসার প্রতিরোধ করা হয়।
- অন্যান্য পদ্ধতি: রেডিওথেরাপি, ক্রায়োথেরাপি ও রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন
প্রতিরোধ ও সচেতনতা
কিডনি ক্যানসার প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত জরুরি। ডা. হারুন আর রশিদ বলেন—
- ধূমপান বর্জন করতে হবে
- ওজন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
- নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি
- স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
- পারিবারিক ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
কিডনি ক্যানসার নিরব ঘাতক হলেও আগেভাগে শনাক্ত হলে এর চিকিৎসা সম্ভব। তাই প্রয়োজন সচেতনতা ও সময়মতো পরীক্ষা।



