১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাপ্তাই হ্রদের মাছ স্থানীয়দের নাগালের বাইরে: জেলা প্রশাসকের প্রশ্ন– এত মাছ যায় কোথায়?

রাঙামাটি প্রতিনিধি। পর্যটন সংবাদ: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ মাছের প্রাচুর্যের জন্য সারা দেশে পরিচিত। প্রতিবছর কয়েক হাজার টন মাছ আহরণ হলেও হ্রদের পাশেই বসবাসকারী রাঙামাটির সাধারণ মানুষ সেই মাছের স্বাদ থেকে বঞ্চিত।

রবিবার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ (মারুফ) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমার জেলার মানুষ কাপ্তাই হ্রদের মাছ পাচ্ছে না, আমিও এই হ্রদের মাছ খেতে পারছি না। এত মাছ যায় কোথায়, তার জবাব চাই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ

রাঙামাটি শহরের বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয়দের জন্য পর্যাপ্ত হ্রদীয় মাছ পাওয়া যায় না। কলেজপাড়া বাজারে বাসিন্দা মংসা চাকমা বলেন, “হ্রদের পাশে থেকেও মাছ কিনতে গেলে দাম এত বেশি যে সাধ্যের বাইরে। বেশিরভাগ চলে যায় ঢাকায়।”
গৃহিণী শেলী দত্তের অভিযোগ, “বাজারে যে মাছ পাই, তা হয় দুর্গন্ধযুক্ত পুকুরের বা হিমায়িত। অথচ জানি হ্রদে প্রচুর টাটকা মাছ আছে। আমাদের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই।”

অভিযোগের তীর বিএফডিসির দিকে

কাপ্তাই হ্রদের মাছ আহরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। স্থানীয়দের দাবি, বিএফডিসির কার্যক্রম মূলত বাইরের বাজারমুখী। প্রতিদিন ভোরে ট্রাকভর্তি মাছ চট্টগ্রাম ও ঢাকায় চলে যায়, কিন্তু স্থানীয় বাজার শূন্য।

একজন মৎস্য ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ঢাকায় বিক্রি করলে দাম বেশি মেলে। স্থানীয় বাজারে রাখলে ক্ষতি।”

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রশাসনের নির্দেশনা

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নুয়েন খিসা সতর্ক করে বলেন, “টাটকা মাছের অভাবে স্থানীয়রা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। শিশুদের বৃদ্ধি ও সুস্থ জীবনের জন্য হ্রদের মাছ অপরিহার্য।”
তিনি পরামর্শ দেন, স্থানীয় বাজারে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ মাছ বরাদ্দ রাখা উচিত।

পৌর প্রশাসক মোবারক হোসেনও বলেন, “হ্রদের মাছের একটা কোটা স্থানীয়দের জন্য নির্ধারণ জরুরি। নাহলে ক্ষোভ আরও বাড়বে।”

জেলা প্রশাসক সভায় স্পষ্ট নির্দেশ দেন—মাছ ব্যবসায়ী, বিএফডিসি ও মৎস্য কর্মকর্তারা আলোচনায় বসে স্থানীয়দের জন্য মাছ সহজলভ্য করতে হবে। তিনি যোগ করেন, “এখানে মাছের সয়লাব হওয়ার কথা। এর সঠিক হিসাব দিতে হবে।”

সমাধানের দাবি

স্থানীয়দের দাবি—

  • স্থানীয় বাজারে কমপক্ষে ৩০% মাছ নিশ্চিত করতে হবে
  • বিএফডিসির সরাসরি বিক্রয়কেন্দ্র বাড়াতে হবে
  • মাছ পাচার রোধে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়াতে হবে
  • স্থানীয় জেলেদের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে

কাপ্তাই হ্রদের মাছ নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবার জেলা প্রশাসকের প্রকাশ্য প্রশ্নে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এবার আর শুধু বক্তব্য নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাবে। নাহলে দেশের সবচেয়ে বড় হ্রদের তীরে থেকেও রাঙামাটির মানুষ মাছের স্বাদ থেকে বঞ্চিতই থাকবে।

Read Previous

কাতারে হামলা: মুসলিম বিশ্বের জরুরি সম্মেলন ডাকলো দোহা

Read Next

কাপ্তাই হ্রদের পানি ১০৫ ফুটে সীমিত রাখার দাবি রাঙামাটির ছয় উপজেলার মানুষের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular