কাপ্তাই হ্রদের পানি ১০৫ ফুটে সীমিত রাখার দাবি রাঙামাটির ছয় উপজেলার মানুষের

রাঙামাটি প্রতিনিধি। পর্যটন সংবাদ: বর্ষা নামলেই কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাহাড়ি জনপদে মানুষের জীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনে। ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে উপাসনালয় পর্যন্ত সব কিছুই পানিতে ডুবে যায়। লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর ও রাঙামাটি সদরের হাজারো মানুষ প্রতিবছর এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হ্রদের পানি ১০৫ ফুটের ওপরে উঠলেই শুরু হয় বিপর্যয়। শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে, কৃষি ফসল নষ্ট হয়, বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষা কার্যক্রম। দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানির সংকট। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট চরমে পৌঁছায়।

এ অবস্থার পরিবর্তনে ছয় উপজেলার প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে তারা কাপ্তাই হ্রদের পানি সর্বোচ্চ ১০৫ ফুটের মধ্যে সীমিত রাখার দাবি জানিয়েছেন। আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন স্থানীয় আইনজীবী ও নেতৃবৃন্দ—এ্যাডভোকেট মোঃ রহমত উল্লাহ (বাঘাইছড়ি), এ্যাডভোকেট আলাল উদ্দিন (লংগদু), এ্যাডভোকেট মাছুম (রহিম) (নানিয়ারচর) এবং এ্যাডভোকেট ফরহাদ চৌধুরী (রাঙামাটি সদর)।

আবেদনে বলা হয়েছে, পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে মানুষের ঘরবাড়ি ডুবে যায়, খাদ্যাভাব দেখা দেয়। কৃষি, শিক্ষা ও জীবিকার ভিত্তি ভেঙে পড়ে। ফলে পুরো অঞ্চল মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নৌযোগাযোগের জন্য কাপ্তাই হ্রদ গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষার বিষয়টি আগে দেখতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা।

এখন প্রশ্ন একটাই—বিদ্যুৎ নাকি মানুষ? স্থানীয়রা আশা করছেন, জেলা প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।

Read Previous

কাপ্তাই হ্রদের মাছ স্থানীয়দের নাগালের বাইরে: জেলা প্রশাসকের প্রশ্ন– এত মাছ যায় কোথায়?

Read Next

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে আলোচনায় অগ্রগতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular