
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের আট বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। প্রায় দেড় কোটি মানুষের ভিড়ে থাকা এই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে ফেরত পাঠানোর প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে থেমে থাকলেও আবারও নতুন করে আলোচনায় আসছে প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গ।
আজ রোববার (২৪ আগস্ট) থেকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর সেনা পরিচালিত হোটেল বে-ওয়াচ মিলনায়তনে শুরু হলো তিন দিনের আন্তর্জাতিক সংলাপ। এই সংলাপের মাধ্যমে মানবিক সংকট সমাধান এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের নতুন পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে।
‘টেকঅ্যাওয়ে টু দ্যা হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্যা রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শীর্ষক এ আয়োজন যৌথভাবে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রোহিঙ্গা ইস্যু বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দপ্তর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয় জানিয়েছে, সম্মেলনে অন্তত ৪০টি দেশের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থা, কূটনীতিক, গবেষক ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। ২৪ ও ২৫ আগস্ট পাঁচটি কর্ম অধিবেশনে আলোচনার মূল বিষয় হবে মানবিক সহায়তা, নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। শেষ দিন অতিথিরা উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চিত। এর মধ্যেও এই সম্মেলনকে স্থানীয়রা নতুন আশার আলো হিসেবে দেখছেন। উখিয়ার আইনজীবী আব্দুল মান্নান বলেন, “রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে গেছে। যদি এবার আন্তর্জাতিক মহল কার্যকর রোডম্যাপ ঠিক করে, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য।”
উল্লেখ্য, কক্সবাজারের এই আয়োজনকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠেয় রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি সভা হিসেবে দেখা হচ্ছে।



