
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা–করাচি–ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। এই উদ্যোগকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও মানুষে মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমান সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এই রুটে পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে তিন মাসের জন্য ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সপ্তাহে দুটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। যাত্রী চাহিদা, বাণিজ্যিক সাড়া এবং অপারেশনাল অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো বা সময়সূচিতে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
এই রুট চালুর আগে পাকিস্তান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিভিল এভিয়েশন অথরিটি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত আকাশপথ ব্যবহার করে পাকিস্তানের আকাশসীমা অতিক্রমের অনুমতি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অনুমোদন পাওয়ার মধ্য দিয়েই ঢাকা–করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালুর আনুষ্ঠানিক পথ সুগম হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের বড় একটি অংশকে দুবাই, দোহা কিংবা অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের ট্রানজিট হাব ব্যবহার করে ভ্রমণ করতে হয়। এতে যাত্রার সময় যেমন বেড়ে যায়, তেমনি ভ্রমণ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে ভ্রমণ সময় কমবে, খরচও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রী—সব শ্রেণির মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে।
বিমান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা–করাচি রুট পুনরায় চালুর বিষয়ে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিক আলোচনা চলছিল। সব ধরনের কারিগরি, প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক বিষয় নিষ্পত্তির পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সর্বশেষ ২০১২ সালে এই রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছিল। এরপর নানা কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বন্ধ ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি, বাণিজ্য ও সহযোগিতা সংক্রান্ত আলোচনা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ফ্লাইট চালুকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সরাসরি বিমান চলাচল কেবল যাত্রী পরিবহনের মাধ্যম নয়; এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার একটি কার্যকর হাতিয়ার।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা–করাচি রুটটি বাণিজ্যিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রুট চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য সরাসরি যোগাযোগ সহজ হবে, নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আসবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, ওষুধ, কৃষিপণ্য এবং শিল্পজাত পণ্যের বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিমান সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই ফ্লাইটের সময়সূচি, ভাড়া কাঠামো এবং টিকিট বিক্রির বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। যাত্রীদের আগ্রহ এবং বাজার পরিস্থিতি অনুকূল হলে ভবিষ্যতে এই রুটে আরও নিয়মিত ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ঢাকা–করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়াকে কেবল একটি নতুন রুট সংযোজন হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ, বাণিজ্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।




One Comment
Yo, phbestcasino is where it’s at! Tried my luck there last night and had a blast. The slots are fire, and the payouts seem legit. Definitely gonna be hitting this spot again soon. Check it out at phbestcasino.