
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিলেও B1 বা B2 ভিসা অনুমোদনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ২৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতিমালা বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রত্যাশীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীদের ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড অগ্রিম জমা দিতে হতে পারে। তবে আবেদনটি যাচাই হবে প্রচলিত যোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী, এবং বন্ড জমা দেওয়া সত্ত্বেও আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এমন ৩৮টি দেশের তালিকায়, যাদের নাগরিকদের ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে আর্থিক বন্ড দিতে হতে পারে। বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন কনস্যুলার অফিসাররা। এ ক্ষেত্রে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য ব্যবহার করে আবেদনকারীর অতিরিক্ত সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে।
ভিসা বন্ড জমা দিতে হলে আবেদনকারীদের ফর্ম I-352 পূরণ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুমোদিত Pay.gov প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থপ্রদান সম্পন্ন করতে হবে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, অননুমোদিত কোনো মাধ্যম বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করলে সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
বন্ডের বিষয়টি ভিসা আবেদন ফির সঙ্গে সম্পূর্ণ আলাদা। ভিসা আবেদন ফি আগের মতোই অ-ফেরতযোগ্য ও অ-হস্তান্তরযোগ্য থাকবে। ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে বন্ড ফেরতের জন্য আবেদনকারীদের আলাদা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ এবং অনিশ্চিত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতেই বন্ড ফেরত দেওয়া হবে। যেমন—হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ সময়মতো প্রস্থান রেকর্ড নিশ্চিত করলে, আবেদনকারী যদি ভিসার মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করেন, অথবা প্রবেশ বন্দরে প্রবেশের অনুমতি না পেলে। তবে বন্ড ফেরতের ক্ষেত্রে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নীতিকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা অযৌক্তিক চাপ তৈরি করছে, কারণ বিপুল অঙ্কের অর্থ ঝুঁকিতে রেখে আবেদন করলেও ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড নীতি বাংলাদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস



