
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | পর্যটন সংবাদ:
ইসরাইল-ইরান ১২ দিনের সামরিক সংঘাতে ইসরাইলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র তেলআবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পর্যটন খাতের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইসরাইলি গণমাধ্যম ও তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা যায়, ১৩ জুন শুরু হয়ে ২৪ জুন শেষ হওয়া এই সংঘাতে ইসরাইলি ট্যাক্স অথরিটি প্রায় ৩৯,০০০টি ক্ষতিপূরণ দাবির আবেদন গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র তেলআবিবেই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা ২৪,৯৩২টি। পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শপিং সেন্টারসহ বহু বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে এ তালিকায়।
এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলীয় শহর আশকেলোন থেকেও ১০,৭৯৩টি ক্ষতিপূরণ দাবি দাখিল করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যটকদের আনাগোনা ছিল নিয়মিত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা ছাড়াও ৩,৭১৩টি যানবাহন এবং ৪,০৮৫টি যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী ধ্বংস হয়েছে। যদিও সামগ্রিক ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ এখনো আনুমানিক হিসেবেও প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান সংঘাত ইসরাইলের পর্যটন খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আশঙ্কায় অনেক আন্তর্জাতিক পর্যটক ইসরাইল সফর বাতিল করছেন।
উল্লেখ্য, ইসরাইলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে দাবি করে তেলআবিব। এর জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় সোমবার রাতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
এখন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা দ্রুত পুনরুদ্ধার ও সরকারের সহযোগিতার দাবি জানাচ্ছেন, যাতে চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ফিরে আনা সম্ভব হয়।



