
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ইউরোপে ছুটি কাটাতে গেলে এবার একটু বাড়তি সাবধান হতে হবে। খালি পায়ে হাঁটা, স্যান্ডেল পরে গাড়ি চালানো, সৈকতের বাইরে সাঁতারের পোশাক পরা কিংবা জনসমক্ষে মদ্যপান—এসব “সাধারণ” আচরণও এখন আপনার জন্য বড় অঙ্কের জরিমানার কারণ হতে পারে।
এই বছর মহাদেশের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের আচরণে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে নতুন নিয়ম চালু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের যুক্তি হলো—এই ব্যবস্থা শুধু বাসিন্দাদের স্বস্তির জন্য নয়, বরং দায়িত্বশীল ভ্রমণ নিশ্চিত করতেও দরকার।
কোথায়, কী নিয়ম, কত জরিমানা
- গাড়ি চালানোয় নিয়ম ভাঙলে: স্যান্ডেল বা খালি পায়ে গাড়ি চালালে স্পেন, গ্রীস, ইতালি, ফ্রান্স ও পর্তুগালে দিতে হবে সর্বোচ্চ ৩০০ ইউরো জরিমানা।
- সাঁতারের পোশাকের সীমাবদ্ধতা: সৈকতের বাইরে সাঁতারের পোশাক পরা নিষিদ্ধ। বার্সেলোনা, আলবুফেইরা, স্প্লিট, সোরেন্টো, ভেনিস ও কান শহরে এ কারণে জরিমানা হতে পারে ১,৫০০ ইউরো পর্যন্ত।
- জনসমক্ষে মদ্যপান: ম্যালোর্কা, ইবিজা বা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে রাস্তায় মদ্যপানের শাস্তি সর্বোচ্চ ৩,০০০ ইউরো।
- ভেনিসের খালে সাঁতার: সরাসরি ৩৫০ ইউরো জরিমানা। এর বদলে গন্ডোলায় চড়তে উৎসাহ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
- গ্রীসে সৈকত থেকে খোলস বা নুড়ি তোলা: এর জন্য জরিমানা এক হাজার ইউরো পর্যন্ত।
- ইতালির সিনকে তেরতে খালি পায়ে বা অনুপযুক্ত জুতা পরে পাহাড়ে উঠলে: দিতে হবে আড়াই হাজার ইউরো পর্যন্ত।
- ফ্রান্সে সৈকত বা মাঠে ধূমপান করে আগুন লাগালে: জরিমানা ৯০ ইউরো।
কেন এত কড়াকড়ি?
স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, ফ্রান্সের মতো দেশগুলো প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটকের ভিড় সামলায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অনেক পর্যটক দায়িত্বহীন আচরণ করেন—অতিরিক্ত শব্দ, মদ্যপ অবস্থায় ঝামেলা, আবর্জনা ফেলা, এমনকি বিপজ্জনক স্টান্ট। এসব কারণে জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মালাগায় ‘ইমপ্রুভ ইয়োর স্টে’ নামে পর্যটকদের জন্য দশ দফা আচরণবিধি চালু হয়েছে, যেখানে সম্মানজনক পোশাক, শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে। আলবুফেইরায় একই রকম আচরণবিধি প্রণয়ন করেছে কর্তৃপক্ষ।
কাজ হচ্ছে কি?
কিছু এলাকায় ইতোমধ্যেই জরিমানা আদায় শুরু হয়েছে। নাইটলাইফ অঞ্চলগুলোতে ক্যামেরা বসানো হয়েছে, পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে। তবে অনেক পর্যটক নতুন নিয়ম সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি জানেন না। হোটেলগুলো লিফলেট বিলাচ্ছে, শহরে পোস্টার টানানো হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মগুলো দীর্ঘমেয়াদে আচরণ বদলাতে পারবে কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে বার্তাটি স্পষ্ট: সূর্য, বালি আর সমুদ্র উপভোগ করতে চাইলে দায়িত্বশীল হতে হবে।



