পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সোমবার দিনভর হোয়াইট হাউসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপের শীর্ষ নেতারা। কয়েক দফা আলোচনার পর ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে সরাসরি বৈঠকের আয়োজন করতে কাজ শুরু করেছেন।
ট্রাম্প জানান, হোয়াইট হাউসে বৈঠক চলাকালীন সময়েই তিনি পুতিনকে ফোন করেন এবং প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেন। ট্রাম্প লিখেছেন, “ওই বৈঠকের পর একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে—পুতিন, জেলেনস্কি এবং আমি। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ থামানোর জন্য এটি একটি প্রাথমিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে।
জার্মানির চ্যান্সেলর মের্ৎস জানান, পুতিন নীতিগতভাবে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছেন। স্থান ও তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে বৈঠকের পর ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পরিকল্পনা আছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জেলেনস্কি বলেন, “এটি ছিল সবচেয়ে ফলপ্রসূ বৈঠক। আমরা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেছি, যা যুদ্ধ বন্ধের সূচনা বিন্দু হবে।” তিনি আরও জানান, ইউক্রেন পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে প্রস্তুত।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বৈঠককে “খুব সফল” আখ্যা দিয়ে বলেন, ট্রাম্প বাস্তববাদী শান্তিপ্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে কাজ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “তিনি চাপ প্রয়োগ করছেন, আবার সমাধানের পথও খুঁজছেন।”
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ বৈঠকের বাইরে বলেন, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় সেনাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসেবে ইউক্রেনে পাঠানো দরকার হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, রাশিয়া যদি যুদ্ধ থামাতে উদ্যোগী না হয় তবে ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা বাড়াবেন।
সবার আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে, যুদ্ধ থামাতে মূল চাবিকাঠি হবে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। এখন দৃষ্টি থাকবে আসন্ন পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠকের দিকে।



