১৫/০৫/২০২৬
১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের স্থায়ী বসবাস এখন ২০ বছরের পথে

ছবি: সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : যুক্তরাজ্য আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নিয়মকানুনে এক বড় পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর পাঁচ বছর নয়— স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে একজন শরণার্থীকে অপেক্ষা করতে হতে পারে ২০ বছর পর্যন্ত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন আগামীকাল।

সরকারের লক্ষ্য স্পষ্ট— চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় ব্রিটেনে ঢোকা এবং অবৈধভাবে আশ্রয় নিতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা কমানো। এ কারণে পুরো আশ্রয় ব্যবস্থাকেই নতুন করে সাজাতে চাইছে লন্ডন।

অস্থায়ী মর্যাদায় দীর্ঘ অনিশ্চয়তা

এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হয় পাঁচ বছরের জন্য। এরপর আবেদন করলে তারা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পান। নতুন পরিকল্পনায় এই পাঁচ বছর কমিয়ে আড়াই বছরে নামিয়ে আনা হবে। অর্থাৎ প্রথম পর্যায়ে দেওয়া মর্যাদা হবে ৩০ মাস, এরপর তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

কোনো শরণার্থীর নিজ দেশকে যদি তখন “নিরাপদ” হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাকে ফেরত পাঠানোও সম্ভব হতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হবে হাজারো মানুষকে।

স্থায়ী বসবাস— এখন আরও কঠিন

যেখানে আগে পাঁচ বছর পর কেউ স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা পেতেন, এখন প্রস্তাবিত নীতিতে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০ বছর করা হচ্ছে। অর্থাৎ যুক্তরাজ্যে নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা পেতে একজন শরণার্থীকে প্রায় দুই দশক প্রমাণ করে যেতে হবে যে তিনি কাজ করছেন, ভাষা জানেন, আইন ভাঙেননি এবং সমাজের অংশ হয়ে উঠেছেন।

সহায়তা সুবিধাতেও কঠোরতা

শরণার্থীদের থাকার জায়গা ও সরকারি আর্থিক সহায়তা এখন আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়ার নিয়ম থাকবে না। সিদ্ধান্ত হবে পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায়। কাজ করতে সক্ষমদের ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য আরও সীমিত হতে পারে।

এ ছাড়া পরিবার পুনর্মিলন— অর্থাৎ শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার পর স্ত্রী–সন্তানকে ব্রিটেনে এনে বসবাসের সুযোগ— সেটিও কমিয়ে আনার চিন্তা চলছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রেও পরীক্ষানিরীক্ষা আরও কঠোর হবে।

সরকারের ব্যাখ্যা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সরাসরি বলেছেন— লক্ষ্য হলো স্পষ্ট বার্তা দেওয়া:
“নৌকায় চড়ে কেউ এই দেশে আসবেন না। অবৈধ পথে আসা বন্ধ করতে এই সংস্কার করা হচ্ছে।”

তার মতে, অবৈধ অভিবাসন ব্রিটেনকে বিভক্ত করে দিচ্ছে, আর সরকার হিসেবে এই বিভাজন কমানোই তাদের দায়িত্ব। তিনি সতর্ক করেছেন, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও জটিল হতে পারে।

ডেনমার্ক মডেলের ছাপ

এই নীতি কোনও নতুন আবিষ্কার নয়। ডেনমার্কে অনেক বছর ধরে শরণার্থীকে প্রথমে সাময়িক অনুমতি দিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। যুক্তরাজ্য সেই পথেই হাঁটতে চাইছে। সেখানে যেমন নাগরিকত্ব পাওয়া কঠিন, এখানেও তেমন বাধা বাড়াতে চাই সরকার।

সমালোচনা ও উদ্বেগ

মানবাধিকার সংস্থা ও শরণার্থী সহায়তাকারীরা বলছেন, নীতিটি মানবিক দিক থেকে কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যারা যুদ্ধ, নির্যাতন বা বিপদ থেকে পালিয়ে এসেছে, তাদের জন্য ২.৫ বছরের অস্থায়ী মর্যাদা ধরে বারবার রিভিউয়ের অপেক্ষা বড় রকমের মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।

তাদের আশঙ্কা, এত কঠোরতা শরণার্থী প্রবাহ কমাবে বটে, কিন্তু যারা আসবেই—তারা আরও বিপদজনক পথে ঝুঁকতে বাধ্য হবে।এ

Read Previous

এয়ার ইন্ডিয়ার টানাপোড়েনের প্রভাব: সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের অর্ধ-বার্ষিক মুনাফায় বড় ধাক্কা

Read Next

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দ্বিতীয় দিনের সংলাপে ৬ দলের অংশগ্রহণ

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular